আটকাতেই হবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ, মুখ্যমন্ত্রীদের সাথে বৈঠকে ভাইরাস মোকাবিলায় একাধিক নির্দেশ মোদীর

আমাদের ভারত, ১৭ মার্চ: শেষ কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে করোনার সংক্রমণ ফের বাড়তে শুরু করেছে। একাধিক বিশেষজ্ঞ বলতে শুরু করেছেন, দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এসে গেছে। বেশ কয়েকটি রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁদের তিনি আহ্বান জানালেন, “ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আমাদের আটকে দিতেই হবে।”

বুধবারের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কোনওমতে পরিস্থিতি হালকা করে দেখলে চলবে না। কারন যদি এখনই এই বৃদ্ধি না থামানো যায় তাহলে আবার দেশজুড়ে অতিমারির আকার নেবে। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আত্মবিশ্বাস থাকা ভালো কিন্তু সেটা যেন অতিরিক্ত না হয়ে যায়।”

তীরে এসে যেনো তরী না ডোবে। তাহলে মাঠে মারা যাবে সবটা। তাই করোনা আটকাতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের কোমর বেঁধে নামবার পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, কোথায় সমস্যা হচ্ছে তা খুঁজে বের করে সমাধান করতে হবে। গত বছরই ট্রেনিং হয়ে গেছে। সেই ট্রেনিংয়ের কথা মাথায় রেখেই প্রো-অ্যাকটিভ হতে হবে রাজ্যগুলিকে। প্রয়োজনে মাইক্রো কনটেইনমেন্ট জোন তৈরি করতে হবে। দরকার হলে পুরনো সুরক্ষা বিধি চালু করুন।” প্রতি রাজ্যে করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় বাইরে থেকে আসা যাত্রীদের অতিরিক্ত নজর দেওয়া কথা বলেছেন তিনি। নিজের রাজ্যে করোনা মিউটেন্ট করে কোন পথে এগোচ্ছে সে বিষয়ে পর্যালোচনা করার কথা বলেন তিনি। তার জন্য জিনোম টেস্টের ওপর জোর দিতে হবে বলেও জানান তিনি।

সংক্রমণ মোকাবিলায় বেশি করে নমুনা পরীক্ষায় জোর দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি নির্দেশ দেন, “আরোও বেশি নমুনা পরীক্ষা করতে হবে। আমাদের অ্যান্টিজেন টেস্টের উপর জোর দিলে হবে না, আরটি পিসিআর টেস্ট বেশি করতে হবে। টেস্টের মাধ্যমে আক্রান্তদের শনাক্ত করে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

১৬ জানুয়ারি থেকে ভারতে টিকাকরন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে সাড়ে তিন কোটির বেশি মানুষ টিকা নিয়েছেন। মোদী জানান, ভারতের টিকাকরণের গতি বেড়েছে অনেকখানি। আগামী দিনে আরও বেশি টিকাকরণ হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। তবে এই দিনের বৈঠকে বেশকিছু রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক রাজ্যে করোনা প্রতিষেধক নষ্ট হচ্ছে। প্রতিষেধক যাতে কোনোভাবেই নষ্ট না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। কেউ নষ্ট করলে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজ্যগুলিকে গ্রামীণ এলাকায়, ছোট শহরগুলিতে টিকাকরণ বাড়ানোর ব্যাপারে জোর দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাস্থ্যমন্ত্রককে এই বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবারের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, ছত্রিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বাঘেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *