“মোদী এক এবং অদ্বিতীয়, জনতা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে তৃতীয়বারের জন্য তিনি হবেন প্রধানমন্ত্রী,” বিরোধীদের বৈঠককে কটাক্ষ করে বললেন সুকান্ত

আমাদের ভারত, ২২ জুন: এর আগেও বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হবার চেষ্টা করছেন। কিন্তু জনতা তাদের দিকে মুখ তুলে তাকায়নি। এবারেও তার অন‌্যথা হবে না। তৃতীয় বারের জন্য মোদী দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন। আগামীকাল পাটনায় বিরোধীদের বৈঠক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এমনটাই দাবি করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

পাটনায় নীতিশ কুমার ও তেজস্বী যাদবের আহ্বানে বিজেপি বিরোধী দলগুলির একত্রিত হবার কথা শুক্রবার। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী ঐক্যকে একটা রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন মমতা, তেজস্বী, নিতীশরা। কিন্তু বিরোধীদের সেই চেষ্টাকেই কটাক্ষ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আমাদের বিরোধীরা এর আগের বারেও কলকাতায় এসে জড়ো হয়েছিলেন। হাতে হাত ধরে ব্রিগেডে সভা করেছিলেন। তার ফল দেশের জনগণ ভোট দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন। এবারেও বুঝিয়ে দেবেন চিন্তা নেই।” একই সঙ্গে তিনি আরও দাবি করেন, “দেশের জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন আরো একবার অর্থাৎ তৃতীয়বারের জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী আর কেউ নয় নরেন্দ্র মোদীকেই নির্বাচিত করবেন তারা। কারণ মোদী এক এবং অদ্বিতীয়।”

পাটনায় নীতিশ এবং আরজেডি সভাপতি লালু প্রসাদের ছেলে তথা তেজস্বী যাদবের ডাকা বিরোধী জোটের বৈঠকে শুক্রবার এক মঞ্চে উপস্থিত থাকার কথা রাহুল গান্ধী, মল্লিকা অর্জুন খাড়গে, আপ নেতা কেজরিওয়াল, তৃণমূলের তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সিতারাম ইয়েচুরি, ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিন,
জেএমএম সভাপতি হেমন্ত সরেন, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার, পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতীর। বৈঠকের মূল লক্ষ্য আগামী বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধন করে একজোট হয়ে লড়াইয়ে নামা।

বিরোধীদের এই বৈঠকে যোগ দিতে ইতিমধ্যেই পাটনায় পৌঁছে গেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে পৌঁছে তিনি বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদের বাড়িতেও যান। দীর্ঘক্ষণ সেখানে আলোচনা হয়।সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা একের বিরুদ্ধে একের লড়াই চাই। তাই আমরা এককাট্টা হয়েছি কালেক্টিভ ফ্যামিলির মতো। আগামীকাল বৈঠকে কি আলোচনা হয় তারপর বলতে পারব।”

বিরোধীদের হারাতে একের বিরুদ্ধে এক লড়াইয়ের ফর্মুলা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির বিজয় রথ রুখতে চার বছর আগেও সেই ফর্মুলা দিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সে বারে মুখ থুবড়ে পড়েছিল বিরোধীরা। এবার তৃণমূল নেত্রীর দেখানো পথে দেশের ৪৫০টি লোকসভা আসনে একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে পারে বিরোধীদলগুলি। তবে কংগ্রেস এক্ষেত্রে কতটা একমত হবে সেটাই এখন দেখার। বামেদের তরফেও কতটা সমর্থন পাওয়া যায় তা নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। আবার আম আদমি পার্টি ও কংগ্রেসের মধ্যে টানা পোড়েন এখন তুঙ্গে।

অন্যদিকে এই বৈঠকে মায়াবতীর বিএসপি, নবীন পট্টনায়কের বিজেডি এবং কেসিআরের ভারত রাষ্ট্রীয় সমিতিকে এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ফলে এদের বাদ দিয়ে কিভাবে একের বিরুদ্ধে এক ফর্মুলা কার্যকর সম্ভব তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *