আমাদের ভারত, ২৭ মার্চ: রাজ্যের বিধানসভা ভোটে অন্যতম বড় ফ্যাক্টর মতুয়া ভোট। ১৯-এর লোকসভা ভোটে মতুয়া ভোটব্যাংকে থাবা বসিয়েছে বিজেপি। এবার সেই ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে ইতিমধ্যেই রাজ্যের মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। যদিও তৃণমূল পাল্টা দাবি করেছে মতুয়ারা এমনিতেই এদেশের নাগরিক। এই বিতর্কের আবহেই মতুয়াদের মন জয় করে নিতে দু’দিনের বাংলাদেশ সফরে এসে হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মস্থান ওড়াকান্দিতে গিয়ে পুজোদিয়ে হরিবোল ধ্বনি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঘোষণা করলেন সেখানে ভারত সরকারের উদ্যোগে স্কুল তৈরি করা হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, মতুয়াদের মন জয় করে নিতে নিজের বক্তব্যে বারবার হরিচাঁদ ঠাকুরের কথা মোদী তুলে ধরেন। বক্তব্য শুরু করেন জয় হরিবোল, হরিবোল ধ্বনি দিয়েই। পুজো দেন ওড়াকান্দির মতুয়া মন্দিরে। তিনি বলেন বহু বছর এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম আমি। ২০১৫ সালের বাংলাদেশ সফরে ওড়াকান্দি আসার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলাম। এতদিনে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। নয়তো কে ভেবেছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী ওড়াকান্দি আসবেন? ভারতে থাকা মতুয়া ভাইবোনেরা এখানে এলে যা অনুভব করেন আমিও সেটাই অনুভব করছি।” তিনি এপার বাংলায় উত্তর ২৪ পরগনায় ঠাকুরনগরের তাঁর যাত্রা প্রসঙ্গে টেনে এনে বলেন, “আমার মনে আছে ঠাকুরনগরে যখন গিয়েছিলাম, মতুয়া ভাই-বোনেরা আমায় অনেক ভালোবাসা দিয়েছিলেন। সবার আতিথেয়তা, বড়মার ভালোবাসা আমার জীবনের সেরা অমূল্য সময় ছিল।” এপারেও ঠাকুরনগর থেকে বাংলাদেশের ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত একই অনুভূতি হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ওড়াকান্দিতে শিক্ষার বিস্তারে ভারতের মানুষ যুক্ত হবেন বলে ঘোষণা করে তিনি। মোদী বলেন, ওড়াকান্দিতে মেয়েদের স্কুলের আপগ্রেডেশন হবে, শিক্ষার প্রসারে সেখানে একটি নতুন প্রাইমারি স্কুলও ভারত সরকার তৈরি করবে। ভারতের কোটি কোটি মানুষের তরফে এটি হরিচাঁদ ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে ভারত থেকে যে মতুয়া ভাই-বোনেরা হরিচাঁদের জন্মতিথিতে বাংলাদেশ সফরে আসেন তাদের সফর যাতে মসৃণ হয় সেই লক্ষ্যেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তিনি জানান তিনি।

মোদী প্রশংসা করেন তাঁর সফরসঙ্গী বিজেপি সাংসদ শান্তুনু ঠাকুরের। তিনি বলেন, শান্তুনু হরিচাঁদ ঠাকুরের ঐতিহ্য শিক্ষাকে নিজের জীবনে বয়ে নিয়ে চলেছেন। তিনি খুবই কর্মঠ। দিনরাত কাজ করেন। বয়সে ছোট হলেও তাঁর থেকেও শিখি।”

