আমাদের ভারত, ৩০ মার্চ:
বুধবার মতুয়া ধর্মগুরু শ্রীহরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ছুটি ঘোষণা করেছে। কিন্তু ঠিক তার আগেরদিন সন্ধ্যাবেলায় মতুয়া মেলায় যোগ দিয়ে বাজিমাত করলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলে মত রাজনৈতিক মহলের। দিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি তিনি নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। আর সেই বক্তব্যে নাম করেও ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে হলেও তিনি বগটুই তুলে আনেন। একবারও বগটুইয়ের নাম উচ্চারণ না করে রাজনৈতিক হিংসার বিরোধিতার কথা বলে সেই দিকেই স্পষ্ট ইঙ্গিত করেছেন বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।
ভার্চুয়ালি মতুয়া মেলার যোগদান করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য খুনখারাপি হতে দেখেছি। সমাজে বিভাজনের চেষ্টা করা হচ্ছে। ভাষা অঞ্চলের ভিত্তিতে বিভেদ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। এই সময় শ্রীহরিচাঁদ ঠাকুরের জীবন দর্শন আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এক ভারতের মূল্যবোধকে হরিচাঁদ ঠাকুরের ভাবনা আরো দৃঢ় করবে বলেই আমার বিশ্বাস।”
নিজের বক্তব্যে ভারতের সংস্কৃতিতে মতুয়াদের ধর্মগুরু শ্রীহরিচাঁদ ঠাকুরের অবদানের কথা উল্লেখ করে মোদী বলেন, “আমাদের দেশের সংস্কৃতি ও সভ্যতাকে মহান তৈরি করার কৃতিত্ব হরিচাঁদ ঠাকুরের মত মানুষদের। তারা সমাজ সংস্কার করেছেন অষ্টাদশ শতকেই নারীদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। আর এর থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় ওঁনার দৃষ্টিভঙ্গি কেমন ছিল।”
তবে ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের আগে মতুয়া সংঘের মন পেতে সিএএ সংক্রান্ত নতুন কোনও ঘোষণা হতে পারে বলে আশা করা করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু মতুয়া ধর্মগুরু শ্রীহরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মতিথি উপলক্ষে আয়োজিত মতুয়া মেলায় নরেন্দ্র মোদীর মুখে শোনা গেল রাজনৈতিক মতভেদের কারণে নির্যাতনের প্রতিরোধে আওয়াজ তোলার আবেদন। মতুয়া সমাজের কাছে অত্যাচার ও অরাজকতা রুখতে সক্রিয় হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন মোদী। এদিন বক্তব্যের প্রথমেই মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি তথা বনগাঁর বিজেপি সংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর সহ মতুয়া সমাজের প্রতিনিধিদের বাংলায় শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

