আমাদের ভারত, ২২ ফেব্রুয়ারি: তৃণমূলের তরফে ক’দিন আগেই স্লোগান দেওয়া হয়েছে বাঙলার মেয়ে মমতাকেই চায় বাঙলার মানুষ। সোমবার রাজ্য সফরে এসে মোদী প্রশ্ন তুলেছেন সেই বাঙলার মেয়েদের কি পাইপ লাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানীয় জল পাওয়ার অধিকার নেই। এদিন একের পর এক বাঙলার অনুন্নয়ের খতিয়ান তুলে ধরে মোদী যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তুলোধুনো করেছেন তেমনি ‘মানুষ বাঙলার মেয়ে মমতাকেই চায়’ তৃণমূলে এই স্লোগানকেও ঘুরিয়ে কটাক্ষের সুরে আক্রমণ করেছেন। মোদী সরাসরি প্রকাশ না করেও বলতে চেয়েছেন নিজেকে বাঙলার মেয়ে বলে দাবি করেছেন অথচ বাঙলার মেয়েদের দুঃখ মোচনের কাজ করেনি মমতা সরকার।
এদিন মোদী বলেন, “দেশের সব পরিবারের বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহের জন্য কেন্দ্র সরকার “জল জীবন মিশন” চালাচ্ছে। বাংলার জন্য এই মিশন অত্যন্ত জরুরী। এখানে দেড় থেকে পৌনে দুই কোটি গ্রামের ঘরের মধ্যে মাত্র দু-লাখ ঘরে পাইপ লাইনে জল পৌঁছেছে। দেখুন বাংলার মানুষের কি অবস্থা করে রেখেছে? ভারত সরকার এদের পিছনে লেগে থেকে জল জীবন মিশনে এখনো পর্যন্ত মাত্র ৯ লক্ষ ঘরে পাইপলাইনের জল পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পেরেছে। এরকম চললে কত বছরে বাংলার সব ঘরে জল পৌঁছানো যাবে তা ভগবান জানে।”
মোদী আরও বলেন, “আমি আপনাদের প্রশ্ন করতে চাই বাংলা মানুষের কি বিশুদ্ধ পানীয় জল পাওয়ার কি অধিকার নেই? কেন এখানকার মেয়েরা পানীয় জল বয়ে আনার জন্য নিজের সময় ও শ্রম অপচয় করবে? বাঙলার মেয়েদের কি জল পাওয়ার অধিকার নেই? এখানকার সরকারের সেই লক্ষ্যে কাজ করা উচিত নয়?”
প্রধানমন্ত্রী তথ্য দিয়ে বলেন, “কেন্দ্র সরকার ১৭০০ কোটি টাকা জলের জন্য তৃণমূল সরকারকে দিয়েছিল। এর মধ্যে মাত্র ৬০৯ কোটি টাকা খরচ করতে পেরেছে সরকার। বাকি ১১০০ কোটি টাকা নিয়ে বসে রয়েছে তারা। বাংলায় মা বোনদের কি এতে অসুবিধা হচ্ছে না? বাংলার মেয়েদের সঙ্গে যারা অন্যায় করেছে তাদেরকে মাফ করে দেওয়া যায় না।”
মোদী বলেন বাংলার মানুষ বিশুদ্ধ পানীয় জল পাচ্ছেন না, কিন্তু তৃণমূল সরকারের এই নিয়ে কোনও মাথা ব্যথা নেই। বাংলার মেয়েদের জল পাওয়া উচিত নয় কি? এই কারণেই এরাজ্যে পদ্ম ফোটানো জরুরী, যাতে বাংলায় সঠিক অর্থে পরিবর্তন আসে।

