আমাদের ভারত, শ্রীরূপা চক্রবর্তী, ২২ ফেব্রুয়ারি: আজ রাজ্য সফরে এসে হুগলি সাহাগঞ্জের জনসভা থেকে রাজ্যে আসল পরিবর্তনের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
তিনি বলেন, বাংলার মানুষ এবার পরিবর্তনের জন্য মনস্থির করে ফেলেছেন। আর বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে আসল পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছে। যে পরিবর্তনে রাজ্যের মানুষ সিন্ডিকেট মুক্ত, তোলাবাজ মুক্ত,কাটমানি কালচার মুক্ত, গুন্ডারাজ মুক্ত রাজ্য পাবে। যেখানে কৃষক,শ্রমিক যুবসমাজের কর্মসংস্থান হবে। যেখানে উন্নতির জন্য পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ হবে দ্রুত গতিতে। সেই আসল অর্থাৎ সঠিক অর্থে পরিবর্তন আনবে বিজেপি। বাংলার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য অভিনন্দন জানান মোদী।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন আরো আগে হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা হয়নি। তবে আর দেরি করলে চলবে না। এখন বাংলার উন্নয়ন কেন্দ্রের লক্ষ্য। তিনি বলেন এই রাজ্যের মাটিতে রাধানাথ শিকদার, রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব, বঙ্কিমচন্দ্রের মতে মনীষীদের জন্ম। অথচ রাজ্যের সেই সব এত ঐতিহাসিক জায়গাগুলোর কোনও উন্নয়নের কাজ কোনও রাজনৈতিক দল করেনি। বাংলার ঐতিহাসিক ভূমির উন্নয়নের কাজ করতে এগিয়ে আসেনি কেউ। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার সংস্কৃতির জয়গান শুরু হবে।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন বঙ্কিমচন্দ্রের বন্দে মাতারাম ভবনে রক্ষণাবেক্ষণের কাজের নজর দেয়নি কেউ। তিনি বলেন, “এর পেছনে আসলে লুকিয়ে রয়েছে বড় রাজনীতি। এই রাজনীতি আসলে দেশভক্তির বদলে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি। এই রাজনীতি সকলের বিকাশের পরিবর্তে তোষণের রাজনীতি। এখানে মানুষকে দুর্গাপুজোর বিসর্জন দিতে বাধা দেওয়া হয়। বাংলার মানুষ এদের ক্ষমা করবে না।”
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন বিজেপি সরকার বাংলায় ক্ষমতায় এলে বাংলার মানুষ নিজের সংস্কৃতি নিয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচবে। কেউ ভয় দেখাতে পারবে না। বিজেপি সোনার বাংলা তৈরি করতে কাজ করবে। এখানকার সংস্কৃতি ও ইতিহাস আরো মজবুত হবে। বিজেপি এমন বাংলা গড়বে যেখানে সবার উন্নতি হবে।
মোদী অভিযোগের সুরে বলেন, এতদিন বাংলায় যারা রাজত্ব করেছেন তারা বাংলাকে দুর্দশার দিকে ঠেলে দিয়েছেন। স্বাধীনতার আগে দেশের অন্য রাজ্যের থেকে অনেক এগিয়ে ছিল বাংলা। আজ বাংলার উন্নতির সামনে দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে মা মাটি মানুষের সরকার। কৃষক ও গরিবের পয়সা তৃণমূলের তোলাবাজদের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। অথচ সাধারণ মানুষ কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। বাংলার মানুষের অধিকার সরকার ছিনিয়ে নিয়েছে। বাংলা লক্ষ লক্ষ পরিবার আজ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের ৫ লক্ষ টাকার সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
মোদী বলেন, বাংলার মানুষ বিশুদ্ধ জল পাচ্ছেন না। কিন্তু তৃণমূলের সরকারের এই নিয়ে কোনও মাথাব্যাথা নেই। প্রত্যেক ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার জন্য কেন্দ্র ১৭০০ কোটি টাকা দিয়েছিল সরকারকে। কিন্তু তার মধ্যে মাত্র ৬০৯ কোটি টাকা খরচ করতে পেরেছে। বাকি ১১০০ কোটি টাকার কোনও কাজ করেনি এখানকার সরকার। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাংলার মেয়েদের জল পাওয়া কি উচিত নয়? এদেরকে ক্ষমা করবেন আপনারা? তিনি বলেন, আর সেই জন্যেই এরাজ্যে পদ্ম ফোটা অত্যন্ত জরুরী। যাতে আসন পরিবর্তন আসতে পারে।
মোদী বলেন, পূর্ব ভারত এবং অন্য রাজ্যের একাধিক জায়গায় লোকগীতিতে একসময় বলা হত তাদের বাড়ির পুরুষেরা কাজের খোঁজে কলকাতায় গেছেন। বাড়ি ফেরার সময় সেখান থেকে উপহার আনবেন। কিন্তু সেই পরিস্থিতি আজ আর নেই। এখন বাংলার মানুষকে কাজের খোঁজে অন্য রাজ্যে যেতে হয়। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই পরিস্থিতি থেকে বাংলাকে বের করে আনবে।
তিনি বলেন, একটা সময় ছিল যখন বাংলার পাটশিল্প গোটা দেশের চাহিদা মেটাতো। কিন্তু সেই শিল্পকেও এখানে বাঁচানো যায়নি। শত শত মানুষ এই শিল্পের সাথে যুক্ত ছিলেন। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার পাট শিল্পকে বাঁচাতে নতুন করে উদ্যোগী হয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন হুগলির আলুচাষিদের কি অবস্থা তা কারও অজানা নয়।
মোদী বলেন, বাংলায় বিনিয়োগ করতে মুখিয়ে রয়েছেন অনেকেই কিন্তু এখানকার সরকার যে পরিবেশ তৈরি করেছে, যেভাবে এখানে সিন্ডিকেটরাজ চলে তাতে অনেকেই বিমুখ হয়েছেন। বিদেশে থাকা প্রবাসী বাঙালিরা মাতৃভূমির উন্নতিতে যোগদান করতে তৈরি। কিন্তু কি করে করবেন তারা? এখানে একটি ঘর ভাড়া নিতে গেলেও কাটমানি দিতে হয়। সিন্ডিকেটের অনুমতি ছাড়া ঘর ভাড়া পাওয়া যায় না। মোদী বলেন, সেই কারণেই এখানে আসল অর্থে পরিবর্তন আনতে হবে। যতদিন সিন্ডিকেট থাকবে ততদিন বাংলার উন্নতি সম্ভব নয়, তোলাবাজ থাকাকালীন বাংলার উন্নতি সম্ভব নয়, গুন্ডাদের আশ্রয়দাতা প্রশাসন থাকাকালীন এখানে উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন আর নয় অন্যায় আমরা আসল পরিবর্তন চাই।

