আমাদের ভারত, ২৬ মার্চ: বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর তথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিক উপলক্ষে ২ দিনের সফরে ঢাকা গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি যেমন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও তাতে ভারতের অবদান স্মরণ করান ঠিক তেমনি বক্তব্যের শেষে “জয় বাংলা, জয় হিন্দ” স্লোগান দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে মোদীর বক্তব্যের শেষে এই স্লোগান শুধুমাত্র দু’দেশের মৈত্রী বার্তা দেওয়াই উদ্দেশ্য নয়। কারণ বাংলাদেশের এই “জয় বাংলা” স্লোগান এবারের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের শাসকদলেরও স্লোগান। ফলে “জয় বাংলা, জয় হিন্দ” এই এক স্লোগানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দ্বিমুখী বার্তা দিতে চেয়েছেন বলে মত তাদের।
এদিন মোদী দু’দেশের সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস স্মরণ করেন। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি স্থাপনে বঙ্গবন্ধুর অবদান স্মরণ করেন তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “বাংলাকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।” সে কথা আজ বাংলাদেশ প্রমাণ করে দেখিয়েছে। মোদী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দুই বন্ধু দেশকে এক জোট হয়ে লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে সেদেশের ৫০ জন শিল্পপতিকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান মোদী। যাতে তারা এখানে এসে বিনিয়োগকারীদের সাথে কথা বলতে পারেন এবং তাদের অভিজ্ঞতায় ভারতও সমৃদ্ধ হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রীদের জন্য বৃত্তিও ঘোষণা করেন তিনি। মোদী জানান, বাংলাদেশকে করোনার টিকা পৌঁছে দিতে পেরে তিনি খুশি।
এছাড়াও মোদী জানান তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রথমভাগে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শামিল হয়েছিলেন। স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, তাঁর জীবনের শুরুর দিকের আন্দোলনের অন্যতম ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ে শামিল হওয়া। তাঁর কথায় তাঁর সাথে বাংলাদেশের আত্মীক সম্পর্ক আজকের নয় বরং মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে। তিনি বলেন, “আমার জীবনের শুরুর দিকের আন্দোলনগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ে শামিল হওয়া। তখন আমার বয়স ছিল ২০-২২ বছর। আমি ও আমার সঙ্গীসাথীরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সমর্থনে সত্যাগ্রহ করেছিলাম, আমাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। আমরা জেলেও গিয়েছিলাম বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য।” মোদী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য এদিকে যতটা তাগিদ ছিল ততটাই তাগিদ ওপারেও ছিল। মোদী মুক্তিযুদ্ধে ইন্দিরা গান্ধীর নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে মনে করান কাজী নজরুল, গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো মনীষীরা এই দু-দেশকে বেঁধে রেখেছেন। আগামী দিনেও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, দারিদ্র্য দূরীকরণ সহ উন্নয়নের লক্ষ্যে দু’দেশ এক সাথে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।
এরপর বক্তব্যের শেষে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান ও “জয় বাংলা, জয় হিন্দ” ধ্বনি দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মোদী বক্তব্যের শেষে এই স্লোগান দিয়ে যেমন ভারত বাংলাদেশের মৈত্রীকে দৃঢ় করার চেষ্টা করেছেন একইসঙ্গে এপার বাংলা অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের মানুষকেও বার্তা দিয়েছেন।
কারণ এই স্লোগানকেই হাতিয়ার করেই ভোট বৈতরণী পার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল। মোদী মনে করাতে চেয়েছেন এটা যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের তথা বাংলাদেশের শ্লোগান। আর পাশাপাশি বাংলার কৃতিসন্তান নেতাজি সুভাষচন্দ্রের আজাদ হিন্দ ফৌজের জয় হিন্দ স্লোগানের অবতারণা করেন।

