সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৩ এপ্রিল: মোদী সরকার রাজ্যের গরিব মানুষের পকেট কেটে চলছে, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার মাসে মাসে ব্যাঙ্কের মাধ্যমে টাকা দিচ্ছে। আজ পাত্রসায়েরের গরুরহাটে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায় এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, একদিকে করের বোঝা, রান্নার গ্যাস ও শাক- সবজির মূল্য বৃদ্ধির বোঝা চাপিয়েছে মোদী সরকার, আর অন্যদিকে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকার ব্যাঙ্কের মাধ্যমে দেড় হাজার টাকা করে প্রতিমাসে লক্ষ্মীর ভান্ডার দিচ্ছে। এখানেই পার্থক্য মোদী সরকারের সঙ্গে মমতা সরকারের। মোদী সরকার গরিব মানুষের পকেট কেটে চলছে।
সোনামুখীর প্রার্থী ডাঃ কল্লোল সাহা ও ইন্দাসের প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদীর সমর্থনে আয়োজিত মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে বলেন, মোদী সরকার এ রাজ্যের জন্য ১০ পয়সাও বাড়তি সুযোগ দেয়নি। অভিষেক বন্দোপাধ্যায় বলেন, সোনামুখী ও ইন্দাস এলাকায় ডবল ইঞ্জিন সরকার চলছে। এখানে সাংসদ ও বিধায়ক দু’জনই বিজেপির। তা সত্ত্বেও এলাকার কোনো উন্নয়ন হয়নি। ইন্দাসের বিজেপি বিধায়ক নির্মল ধারা স্থানীয় মানুষের কাছে নিখোঁজ বিধায়ক বলেই পরিচিত। তাকে এলাকায় দেখা যায় না। তার উদ্যোগে কোনো উন্নয়নের কাজ এলাকায় হয়নি। একটা স্টেডিয়াম করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ভোটের পর তা ভুলে গেছেন।

গত ২০২১ সালের নির্বাচনে ইন্দাস বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল প্রায় ৭ হাজার ভোটে হেরে গিয়েছিল, কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রায় ৯ হাজার ভোটে এগিয়েছিল। এবার বাগদি পরিবারের একজন মহিলা শ্যামলী রায় বাগদিকে প্রার্থী করেছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। শ্যামলীদেবী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে এলাকার ৮ হাজার মহিলার ক্ষমতায়ন করেছেন। তৃণমূল সরকারের আমলে এখানে আকুই কমলাবালা মহিলা কলেজ, কৃষাণমান্ডি, কর্মতীর্থ করেছে। রাস্তার উন্নয়ন করেছে। সেতু নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন করেছে। সোনামুখীতে ১৪ কোটি টাকা খরচ করে নফরডাঙ্গায় সেতু, গত ২০২৩ সালে দমকল কেন্দ্র, ২০২২ সালে আইটিআই তৈরি হয়েছে। গ্রিনসিটি প্রকল্পে আলোক সজ্জায় সাজানো হয়েছে শহরকে। মা স্বর্ণময়ী দেবীর নাম থেকে সোনামুখী নাম হয়েছে শহরের। সেই স্বপ্নময়ী তলা ঢেলে সাজানো হয়েছে। পাত্রসায়েরে ১৫০কোটি টাকা খরচ করে কৃষাণমান্ডী হয়েছে। সোনামুখী ব্লকে ডিহি পাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে নির্মাণ হয়েছে বাঁধ। নিত্যানন্দপুর দামোদর নদের স্থায়ী বাঁধ দেওয়ার কাজ হয়েছে। তৃণমূল উন্নয়নে বিশ্বাসী, আর বিজেপির মূল অস্ত্র হলো দাঙ্গা ও অনাচার।
পুরুলিয়ার জয়পুর থেকে সভা সেরে তিনি প্রায় সাড়ে তিনটে নাগাদ পৌঁছোন পাত্রসায়েরে। প্রথমেই তিনি জানান যে, বিশাল সংখ্যক উপস্থিতি বলে দিচ্ছে সকলে ২৩ এপ্রিল ভোট দিলে বিজেপির জামানত বাজেয়াপ্ত করা থেকে কেউ আটকাতে পারবে না। লাইনে দাঁড়িয়ে বোতাম টিপলে বিজেপির খেলা শেষ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, যারা বাংলাকে বঞ্চিত, নিপীড়িত ও অত্যাচারিত করে রেখেছে, আগামী দিন তারা এর জবাব পাবে। বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুরে বিপুল জয় এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

