আমাদের ভারত, ৭ মার্চ: ব্রিগেডের জনসভা থেকে শুধু তৃণমূল কংগ্রেসকেই নয় বাম কংগ্রেস ও আব্বাসের সংযুক্ত মোর্চাকেও রীতিমতো আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, একসময় যে কংগ্রেসের কালো হাত ভেঙ্গে দিও গুঁড়িয়ে দাও স্লোগান দিয়ে বামেরা ক্ষমতায় এসেছিল। এখন আবার সেই কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করছে তারা। কটাক্ষের সুরে তিনি প্রশ্ন করেন, তাহলে কি এখন কংগ্রেসের কালো হাত সাদা হয়ে গেছে।
মোদী বলেন, স্বাধীনতার পর কংগ্রেস ক্ষমতায় এসে কিছুটা হলেও কাজ করছিল। কিন্তু তারপরই শুরু হয়ে যায় ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির। এরপরই বামপন্থীরা এসে বলে কংগ্রেসের কালো হাত ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও। এই বলেই বামপন্থীরা বাংলার ক্ষমতা দখল করে ৩৪ বছর শাসন করেছে। কিন্তু এখন আবার সেই কালো হাতের কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে বামেরা। মোদী প্রশ্ন করেছেন, “আজ তাহলে সেই কালো হাত কীভাবে সাদা হলো? যে হাতকে একসময় ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে চেয়েছিল সেই হাতে আজ কিভাবে আশীর্বাদ দিচ্ছে?”
একইসঙ্গে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বলেন, একসময় বামেদের বিরুদ্ধে লড়াই করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মা-মাটি-মানুষের স্লোগান তুলেছিলেন। কিন্তু বাংলার সাধারন মানুষ কি কোনো পরিবর্তন দেখেছে?কৃষক শ্রমিকের জীবনে কি কোন পরিবর্তন এসেছে?গরিব মানুষকে আরো গরীব করা হয়েছে। খুনের রাজনীতি কি কোন পরিবর্তন হয়েছে বাংলায়? মা মাটি মানুষের কি অবস্থা আপনারা জানেন। ঘরে ঢুকে মায়েদের উপর অত্যাচার হচ্ছে। সারাদেশ দেখছে ৮০ বছরের বৃদ্ধা মায়ের ওপর অত্যাচার হয়েছে। যা গত ১০ বছরে বাংলার এমন কোনো মান নেই যিনি কোনো কোনো না কোনো কারণে চোখের জল ফেলেননি।” তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ূ তিনি বাংলার মানুষের বন্ধু হয়ে কাজ করবেন। মানুষের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেবেন। মন জয় করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে আজকের ব্রিগেডের সভা থেকে যখন প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল ছাড়াও সংযুক্ত মোর্চার দিকে আক্রমণ শানালেন, তখন এটা স্পষ্ট হয়েছে বিরোধী হিসেবে সংযুক্ত মোর্চাকেও মোটেও ছোট করে দেখছে না পদ্ম-শিবির।

