আমাদের ভারত, ১৭ এপ্রিল: শুক্রবার পঞ্চম দফার ভোটের আগে একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ করে বিজেপি নেতা অমিত মালব্য দাবি করেন, শীতলকুচিতে বাহিনীর গুলিতে চারজনের মৃত্যুর পর সেখানকার তৃণমূলের প্রার্থী পার্থ প্রতিম রায়কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন করেছিলেন। সেই ফোনালাপের অডিও ক্লিপটি তিনি তুলে ধরেন সংবাদমাধ্যমে সামনে। (যদিও ঐ অডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাই করেনি আমাদের ভারত) ওই অডিও ক্লিপে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা গিয়েছিল, ডেডবডি যেন পরিবারের হাতে তুলে না দেওয়া হয়। সেগুলি নিয়ে তৃণমূল মিছিল করবে পরের দিন। দিদি নিজে সেখানে যাবেন। আজ সেই অডিও প্রসঙ্গ তুলে মোদী বলেন, দিদি কতটা নির্মম ও অসংবেদনশীল তা আরও একবার আমরা দেখলাম। অন্যদিকে মমতা দাবি করলেন, তিনি অন্যায় কিছু বলেননি।
মোদী বলেন, “কোচবিহারে যে ঘটনা হয়েছে তা নিয়ে একটি অডিও ক্লিপ আপনারা শুনেছেন। পাঁচজনের মৃত্যু নিয়েও রাজনীতি করেছেন দিদি। ওই অডিওতে কোচবিহারে তৃণমূল নেতাকে বলা হচ্ছে নিহতদের মৃতদেহ নিয়ে মিছিল করো। দিদি ভোট ব্যাংকের জন্য আর কতদূর যাবেন? কোচবিহারের মৃত্যুর ঘটনায় রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন দিদি। লাশ নিয়ে রাজনীতি করা দিদির পুরোনো অভ্যাস।”
মোদী আরো বলেন, “দিদি শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নয়, সেনাকেও অপমান করেন। রাজনৈতিক কারণে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেন। দিদি নিজেকে দেশের সংবিধানের চেয়েও বড় ভাবেন। দিদির প্রতিশোধের স্পৃহা বিপদজনক সীমা পেরিয়ে গেছে।
এপ্রসঙ্গে গলসী সভায় মমতা বলেছেন, “কে আমার ফোনে আঁড়ি পাতছে? আমি তা জানতে চাই। উন্নয়নের কোনো কথা বলতে পারছে না আমার ফোনে আঁড়ি পাতছে। এটা একটা বিরাট স্ক্যাম। সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেবো আমি।”
গলসী ছাড়াও কাটোয়ার সভা থেকেও অডিও টেপ নিয়ে সরব হয়েছেন মমতা। দিদির পাল্টা দাবি, “অন্যায় তো কিছু বলিনি। কতগুলো বাচ্চাকে মেরে দিয়েছে। ২০-২৫ বছর বয়সী। আমি বলেছি ডেডবডি গুলো রেখে দাও। আমি যাব। ভোটের দিন কি আমি যেতে পারি? তাই পরের দিন যাব বলেছিলাম। এটা তো প্রেসকেও বলেছিলাম। পরের দিন যাব। শীতলকুচি যাব বলে ব্যবস্থাও করেছিলাম। নির্বাচন কমিশন বলল যাওয়া যাবে না। কি সত্যি কথা নাকি মিথ্যে কথা? মোদীর কাছে জানতে চাই তাতে কি প্রমাণ হলো? আপনি জবাব দিন। আপনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারকে অপমান করেছেন।”

