পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২৪ মার্চ: নির্বাচনের আগে জেলায় গেরুয়া ঝড় তুলতে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহেই দক্ষিণ দিনাজপুরে আসছেন মোদী-শাহ জুটি। আসছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পাশাপাশি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাও। বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ক্ষমতা দখলে মরিয়া হয়ে উঠছে শাসক থেকে বিরোধী সকলেই। নিজস্ব কায়দায় সকলেই শুরু করেছে তাদের ভোট প্রচার। আর সে কায়দাতেই এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় নির্বাচনী ঝড় তুলতে আসরে নামছেন গেরুয়া শিবিরের সর্ব্বোচ্চ হেভিওয়েট নেতৃত্বরা। জেলার ৬টি আসনই নিজেদের পকেটে পুরতে মরিয়া বিজেপি নেতৃত্বরা মাঠে নামিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও।
বিজেপির দলীয় সূত্রের খবর, আগামী ১৫ এপ্রিল জেলার হরিরামপুর বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থী নীলাঞ্জন রায়ের হয়ে প্রচার সারবেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ১৭ এপ্রিল গঙ্গারামপুরে বিজেপি প্রার্থী সত্যেন্দ্রনাথ রায়ের হয়ে প্রচারে আসছেন দেশের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই ভাবে ১৯ তারিখে জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া কুমারগঞ্জে ভোটের প্রচারে দেখা যাবে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’কে। কুমারগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী মানস সরকারের হয়ে প্রচার করবেন তিনি। যেখানে সীমান্ত সুরক্ষার একাধিক বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন অমিত শাহ। ২০ এপ্রিল বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা প্রচারে আসছেন বালুরঘাট শহরে। বালুরঘাটের বিজেপি প্রার্থী অশোক লাহিড়ীর হয়ে প্রচারে ঝড় তুলবেন তিনি। উল্লেখ্য, দীর্ঘ জল্পনার পর জেলার বাইরে থেকে প্রার্থী করা হয়েছে অশোক লাহেড়ীকে। সে দিক থেকেও দলের মনোমালিন্য দূর করতে জেলার সদর শহরে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির এমন জনসভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন জেলার রাজনৈতিক মহল। ২৩ এপ্রিল কুশমন্ডির বিজেপি প্রার্থী রঞ্জিত রায়ের হয়েও প্রচার করবেন জেপি নাড্ডা। বৃহস্পতিবার ওই চার হেভিওয়েট নেতৃত্বর জেলা সফরের খবর পৌছাতেই রীতিমতো তোড়জোড় শুরু হয়েছে জেলা বিজেপি নেতৃত্বদের মধ্যে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে প্রচার অভিযান থেকে শুরু করে মিটিং মিছিল সবকিছুর মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে জনসভার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন বিজেপি নেতৃত্বরা।
বিজেপির জেলা সভাপতি বিনয় বর্মন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার তাদের কাছে সিডিউল এসে পৌঁছেছে। ইতিমধ্যে তারা সমস্ত রকম প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। ছোট ছোট মিটিং মিছিলও করা হচ্ছে। প্রতিটি সভায় যাতে প্রচুর জনসমাগম হয় সেই বিষয়টিও দেখা হচ্ছে। জেলার প্রতিটি আসন দখল করতে মরিয়া বিজেপি।

