আধুনিক প্রযুক্তি বাড়িতে ঢুকতে দেননি, গ্রামোফোন–ই সময় কাটানোর সঙ্গী রায়গঞ্জের বিজয় দাসের

স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ৩ সেপ্টেম্বর: উন্নত প্রযুক্তির সাউন্ড সিস্টেমে ভরসা নয়, জীর্ণ অতীতকে আঁকড়ে ধরে আজও গ্রামোফোন, কাঠের কলে গান শুনে তৃপ্তি মেটানোর পাশাপাশি নিঃসঙ্গ জীবনের সময় কাটান রায়গঞ্জের উকিলপাড়ার বাসিন্দা অশীতিপর বৃদ্ধ বিজয় দাস। বিজয়বাবু এখনও নিয়মিত গান শোনেন কাঠের কল, ফোনোগ্রাফ অথবা গ্রামোফোনেই। উন্নতি প্রযুক্তি বিজয়বাবুর বাড়ির দরজায় প্রবেশ করতে পারেনি। বিজয়বাবু ধরে রেখেছেন সুরেলা কণ্ঠ শোনানোর আদিমতম মাধ্যমকেই।

রায়গঞ্জ শহরের উকিলপাড়ার বাসিন্দা পেশায় সরকারি কর্মচারী বিজয়বাবুর বয়স এখন ৮৪ ছুঁই ছুঁই। বছয় কয়েক আগে স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন পরলোকে। কর্মসূত্রে সন্তানরা থাকেন বাইর, ফলে বিজয়বাবুর দিনের বেশিরভাগ সময়ই কাটে একাকীত্বে। সৌখীন মানুষ বিজয় দাসের দ্বিতল বাড়ির প্রতিটি কোনায় কোনায় রয়েছে সৌখিনতার ছোঁয়া। সবখানেই যেন প্রাচীনতা ও ঐতিহ্যের ছোঁয়া। কাঠের ঘোড়া, মাটি, ধাতব মূর্তি রয়েছে ঘরের বিভিন্ন জায়গায়। আসবাবপত্রেও রয়েছে অতীতের ছায়া। এই সবকিছুর মাঝে চোখে পড়ার মতন বিষয় হলো বিজয়বাবুর দীর্ঘদিনের পুরোনো গ্রামোফোন।

সত্তর দশকের দোরগোড়ায় রায়গঞ্জ শহরের একটি দোকান থেকেই গ্রামোফোনটি কিনে ছিলেন বিজয়বাবু। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সাগর সেন, মীরার ভজন, হীরক রাজার দেশে, নাজিয়া হাসান, দেবব্রত বিশ্বাস আরও কত কী রেকর্ড রয়েছে তাঁর সংগ্রহশালায়। সময়ের সাথে সাথে সবকিছু বাতিল হয়ে গেলেও বিজয়বাবুর গ্রামোফোনটি এখনও রয়েছে পুরোনো মেজাজেই।

মাঝে একবার অবশ্য গ্রামোফোনের পিন ভেঙ্গে যাওয়ায় বিড়ম্বনায় পড়েছিলেন বটে, তবে কলকাতা থেকে সেই পিন আনিয়ে সারিয়ে তুলেছেন পছন্দের প্রাচীনতম গানের কলটিকে। বিশ্বভারতীর প্রাক্তন ছাত্র বিজয়বাবু জানালেন, উন্নত প্রযুক্তি আসলেও তিনি অতটা তাতে সড়গড় নন। তবে গান তিনি এখনও শোনেন গ্রামোফোনেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *