আমাদের ভারত, ৩০ ডিসেম্বর: আধুনিক প্রযুক্তিতে ভর করে ভারতীয় রেল ক্রমশ তারুণ্যে ভরপুর হয়ে উঠছে। আজ আমেদাবাদ থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বন্দে ভারত ট্রেন ও জোকা- তারাতলা মেট্রো লাইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার পর এমনটাই বললেন প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, তার সরকারের একটাই লক্ষ্য আধুনিক এবং আত্মনির্ভর ভারত নির্মাণ। আর আধুনিক ভারতের প্রতীক আধুনিক রেল।
আধুনিক ভারত গড়ার প্রসঙ্গে নিজের মনোভাব ব্যক্ত করতে তিনি রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করেন। কবিগুরুর কবিতার লাইন, “ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা”, উদ্ধৃত করে মোদী বলেন, আমাদের রাষ্ট্রভাবনা দেশের জন্য কাজ করা দেশ গড়ে তোলা।
এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের কার্য কালে রেলের অগ্রগতির বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে যেমন ব্যবসা বাণিজ্য বাড়বে তেমনি পর্যটনও বাড়বে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ভারত সরকার দেশের থমকে থাকা জল পরিবহনকেও পুনরায় চালু করতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৩ জানুয়ারি বারাণসী থেকে একটি জাহাজ বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে অসমে পৌঁছাবে। এভাবে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রকে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অতীতে বিদেশী রাজ এবং স্বাধীনতা পরবর্তীকালে সরকারগুলি দেশের জল পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করেনি। অথচ প্রাচীন ভারতকে সমৃদ্ধ করেছিল নদ-নদীর পরিবহনই।
দুর্নীতির বিরুদ্ধেও মোদী আজ সরব হন। তিনি দাবি করেন, তাদের সরকার সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ফিরিয়েছে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশাসন এখন বিভিন্ন মন্ত্রকের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে ফলে এই অগ্রগতি অনেক দ্রুত হচ্ছে আর সেই কারণে গোটা বিশ্ব আজ ভারতের দিকে তাকিয়ে আছে।
আদি গঙ্গার উল্লেখ করে মোদী বলেন, আদি গঙ্গার হাল ফেরানোর কাজ শুরু হয়েছে। গঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করার কাজও সমানভাবে এগোচ্ছে। আজ গঙ্গা পরিষদের বৈঠকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি নমামি গঙ্গের সাতটি পিইউআর রিড ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্টের উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্পের ১৪ টি পুরো এলাকার দূষিত জল গঙ্গায় ফেলার আগে পরিশোধন করা হবে। এর ফলে গঙ্গা দূষণমুক্ত করা সম্ভব হবে। বাড়বে ইলিশ সহ বিভিন্ন মাছের উৎপাদন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আজ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার এন্ড সেমিন্ট্রেশন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। ডায়মন্ড হারবারে তৈরি প্রতিষ্ঠানটি জল ও সেনিটেশন সংক্রান্ত বিষয়ে স্থায়ী প্রতিষ্ঠানগুলিকে সহায়তা করবে।
এছাড়াও, হুগলির বৈঁচি ও বর্ধমানের শক্তিগড় পর্যন্ত ছাব্বিশ কিলোমিটার পথের রেল লাইনের আধুনিকীকরণ, ডানকুনি- চন্দনপুর চতুর্থ লাইন, নিমতিতা নিউ ফারাক্কা এবং আমবাড়ি ফালাকাটা নিউ ময়নাগুড়ি বহ্নিহাট ডবল লাইন তৈরির কাজও আজ চালু হয় প্রধানমন্ত্রীর হাতেই।

