নামেই মডেল ভিলেজ, নেই ১০০ দিনের কাজ, অনটন গ্রাস করছে দুর্গাপুরের দাশিরবাঁধ গ্রাম

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৮ জুলাই: নামেই মডেল ভিলেজ। শৌচাগার জুটলেও ঘর নেই। ভাঙ্গাচোরা টালির চালার বাড়ি। বেহাল নিকাশী। তথৈবচে পানীয় জলের ব্যাবস্থা। বর্ষায় বন্ধ কাজ। টান পড়েছে রুজিতে। নেই ১০০ দিনের কাজ। অনটন গ্রাস করছে দুর্গাপুরের ১ নং ওয়ার্ডের দাশির বাঁধ গ্রাম। 

  শিল্পশহরের সীমানা লাগোয়া দাশিরবাঁধ গ্রাম। বেশীরভাগ আদিবাসী দিনমজুর সম্প্রদায়ের বসবাস। বছর ৩০ আগে ঝাড়খন্ড, বিহার থেকে খাদানের কাজের তাগিদে এসে বসবাস শুরু করেছে। তারপর থেকে এখানেরই বাসিন্দা হয়ে গেছে। বর্তমানে প্রায় শ’দুয়কে পরিবারের বসবাস। গ্রামের পরিকাঠামো মুখ থুবড়ে। গ্রামে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ডিএসপির সিএআর ফান্ড থেকে শৌচাগার তৈরী করে দিয়েছে। কয়েক বছর আগে একটি অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টার তৈরী করে দিয়েছে। ট্যাপ কলও রয়েছে। তবে জল সেভাবে পড়ে না। ভাঙ্গাচোরা টালির চালার মাটির ঘর। ভগ্নপ্রায় বাড়িতে ঝু্ঁকি নিয়ে বসবাস করে গ্রামবাসীরা। আংশিক অংশে বিদ্যুত রয়েছে। মজে গেছে নিকাশীনালা। সব মিলিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।

দুটি অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টার। করোনা আবহের লকডাউনে বন্ধ পঠনপাঠন। প্রাথমিকের গন্ডি পেরিয়ে খুব কম ছেলে মেয়েই উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। পড়াশোনায় সরকারি সহায়তা সেরকম জোটে না বলে অভিযোগ। যাতায়াতের সমস্যার জন্য মেয়েরা মুখ ফিরিয়েছে পড়াশোনায়। গ্রামে ঢোকার মুখে ডিএসপির মডেল ভিলেজের সাইনবোর্ড। বাসিন্দারা জানান, “জমির পাট্টা থেকে আবাস যোজনার বাড়ি কিছু জোটে না। বৃদ্ধ ভাতাও জোটেনি।” বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, “গ্রামের পাশে মোরাম খাদানে কাজ করা হয়। কিন্তু বর্ষায় কাজ বন্ধ। ১০০ দিনের কাজও এখানে হয় না। চরম আর্থিক অনটনে সংসার চালানো কষ্টকর হয়েছে। তার ওপর লকডাউনে কাজ না থাকায় অনটন নেমে এসেছে সংসারে। দুঃশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।” 

জানা গেছে, দাশিরবাঁধ, হেতেডোবা, বনশোল, বাশিয়া, জব্বরপল্লী এলাকায় রয়েছে মোরাম খাদান। মোরাম থেকে নুড়ি বের করা হয়। আর সেই নুড়ি ভিন রাজ্যে যায়। প্রায় হাজার দশেক লোক ওই খাদানের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। মাইনর মিনারল আইন অনুযায়ী মোরাম তোলার অনুমতি দেয় রাজ্য সরকার। গ্রিন ট্রাইবুনালের নির্দেশে বর্ষার কারনে সেসব খাদান বন্ধ থাকে। আর তার জেরেই কর্মহীন হয়ে পড়েছে গ্রামবাসীরা।

স্থানীয় কাউন্সিলার শিপ্রা সরকার জানান, “রেশন পায় গ্রামবাসীরা। এছাড়াও বিভিন্ন সময় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওই গ্রামে সাহায্য করে। এছাড়াও জমিটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ডিএসপির তাই সরকারি প্রকল্পের বাড়ি করায় জটিলতা রয়েছে।” 

ডিএসপি জনসংযোগ আধিকারিক আশরাফুল হোসেন মজুমদার বলেন, “মূলত সিএসআর ফান্ডে স্যানিটেশনের কাজ হয়। পানীয় জলের ব্যাবস্থা করা হয়। দুর্গাপুর আশপাশে এরকম ১১ টি গ্রামে কাজ করা হয়েছে। ঘরবাড়ি করা হয় না। তবুও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *