সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১২ ডিসেম্বর: বনগাঁ লোকালে প্রতিদিনি কারও না কারও মোবাইল চুরি যাচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ৬.৫০-এ বনগাঁ স্টেশন থেকে ট্রেন ধরেন বনগাঁ শক্তিগড়ের বাসিন্দা পলাশ দে। ট্রেন দমদমে পৌঁছনোর আগে টের পান তাঁর মোবাইল ফোন উধাও। চিৎকার-চেঁচামেচি জুড়লেও চোর ততক্ষণে পগার পার। এসব আদতে কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। শিয়ালদহ মেইন শাখায় সম্প্রতি মোবাইল হাতিয়ে নেওয়ার একটি চক্র রীতিমতো সক্রিয় বলে অভিযোগ। মোবাইলের পাশাপাশি তারা সুযোগ পেলে ল্যাপটপ সহ ব্যাগ নিয়েও নেমে যাচ্ছে।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, মূলত বারাসত থেকে বিধাননগর স্টেশনের মধ্যে এই চক্র দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জিআরপিতে অভিযোগ জানানোর পর কিছু কিছু ক্ষেত্রে মোবাইল উদ্ধার হচ্ছে। চোরও ধরা পড়ছে। কিন্তু ক’দিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসছে। এই পরিস্থিতিতে নিত্যযাত্রী ও ভুক্তভোগীদের দাবি, রেলযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক নজরদারি আরও বাড়ানো হোক। সেই সঙ্গে দুষ্কৃতীদের ধরতে পুলিশের একাংশের সদিচ্ছার অভাব আছে বলেও অভিযোগ। তাছাড়া, সম্প্রতি এই লাইনের ট্রেনে একাধিক ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। মধ্যমগ্রাম, দমদম সহ বিধাননগরে এই চক্র খুব সক্রিয় বলে খবর।

যাত্রীদের বক্তব্য, ট্রেনে উঠে কারা চুরি, ছিনতাই করে, তা পুলিশ ভালোভাবেই জানে। কিন্তু তাদের গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা সন্তোষজনক নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যাত্রীর কথায়, ‘চক্রের এক-দু’জনকে মাঝেমধ্যে গ্রেফতার করলেও মাথাদের ধরা হচ্ছে না। সেই মাথারা প্রভাব খাটিয়ে ধৃতদের ছাড়িয়ে আনছে। ফের শুরু হয়ে যাচ্ছে চুরি ছিন্তাই।
রবি মিত্র নামে বনগাঁর এক যাত্রী বলেন, দিন কয়েক আগে দমদমে নামতেই পকেট থেকে মোবাইল চুরি হয়ে যায়। পুলিশে জানিয়েও এখনও পর্যন্ত কোনও খবর নেই। পলাশ দে বলেন, এদিন সকালে বনগাঁ লোকাল ধরে দমদমে নামতেই পকেট থেকে মোবাইল তুলে নেই দুষ্কৃতীরা। এই নিয়ে এক মাসে দুটি মোবাইল চুরি হয়ে গেল বনগাঁ লোকাল থেকে। জিআরপিতে অভিযোগ জানিয়েছি। যদিও বনগাঁ লোকালে কোনো পুলিশি নিরাপত্তা নেই বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
জিআরপির এক আধিকারিক অবশ্য বলেন, ‘ট্রেনগুলিতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হয়। মাঝেমধ্যেই চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার করে মালিকের হাতে তুলে দেওয়াও হয়। চোরাই কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আবারও অভিযান চলবে।

