আমাদের ভারত, ২৩ সেপ্টেম্বর: সংসদের নির্বাচিত জন প্রতিনিধিরা মন্দিরের মূর্তির মতো। এরা শুধু দেখানোর জন্য রয়েছেন। এদের কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই। মহিলা সংরক্ষণ বিল ও অন্যান্য অগ্রসর শ্রেণি সংরক্ষণ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফের হিন্দু বিরোধী মন্তব্য করলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী।
মহিলা সংরক্ষণ বিল ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি সংরক্ষণ নিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন রাহুল গান্ধী। ওই সময় ওবিসি সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে বলতে শুরু করেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা মন্দিরের মূর্তির মতো। শুধু দেখানোর জন্যই রয়েছে। তাদের হাতে কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই। লোকসভাকে গণতন্ত্রের মন্দির বলা হয়। আপনি বিজেপির কোনো সাংসদকে জিজ্ঞাসা করুন, তিনি আদৌ কোনো সিদ্ধান্ত নেন কিনা? কেউ কি আইন তৈরি করে? কেউ কি আইন প্রণয়নে অংশগ্রহণ করে? কোনো ভাবেই না। এই লোকসভার কংগ্রেস সাংসদ বা বিজেপির সাংসদরা ইন্ডিয়ার অন্য কোনো সাংসদ সিদ্ধান্ত নেন না।
রাহুলের কথায় “সাংসদদের মন্দিরের মূর্তির মতো রেখে দেওয়া হয়েছে। আর সেখানে ওবিসিদের মূর্তি থাকলেও ক্ষমতা নেই। দেশ পরিচালনায় কোনো অংশগ্রহণ নেই। আমি এই প্রশ্ন তুলেছি। প্রতিটি ওবিসি যুবককে বুঝতে হবে এই দেশ পরিচালনায় আপনার অংশগ্রহণ করা উচিত কিনা? আর যদি তার সুযোগ পান তাহলে আপনাদের জনসংখ্যা কি মাত্র ৫ শতাংশ?
রাহুল গান্ধী এহেন মন্তব্য করে পদ্ম শিবিরকেই তোপ দেগেছেন। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্ব এর পাল্টায় রাহুল গান্ধীকে হিন্দু বিদ্বেষীর তকমা দিয়েছেন। বিজেপি নেতা পি মুরলিধর রাও এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীর হিন্দু বিরোধী মনস্কতা আবার সবার সামনে চলে এলো। রাহুল গান্ধী যদি মনে করেন যে মন্দিরের মূর্তিগুলি শক্তিহীন এবং নিষ্প্রাণ, তাহলে কেন তিনি মন্দিরে যাচ্ছেন? হিন্দুদের জন্য এর চেয়ে অপমানজনক আর কিছুই হতে পারে না। রাহুল গান্ধীর এই হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাত করা নতুন কিছু নয়।
২০১৪ সালের পর একাধিক মন্দিরে যেতে দেখা গেছে রাহুল প্রিয়াঙ্কাকে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট কিছুটা কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকলেও হিন্দু ভোটকে নিজেদের দিকে আনতে পারছে না কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে ইন্ডিয়া জোটের বেশ কয়েকজন নেতা যেমন সাম্প্রতিককালে হিন্দু বিরোধী মন্তব্য করে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন এবার সেই তালিকায় সামিল হলেন রাহুল গান্ধীও।

