সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৯ আগস্ট: বিধায়কের পরকীয়া ও বিয়ের খবর ঘিরে তোলপাড় সাড়া বাঁকুড়া জেলা। ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও বিধায়ক চন্দনা বাউরি এটা বিরোধীদের কুৎসা বলে দাবি করেছেন।
ঘটনার সূত্ৰপাত গতকাল বুধবার রাতে। শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরি নিজের গাড়ির চালকের সাথে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে বুধবার রাতে বিয়ে করেছেন। এই খবর বৃহস্পতিবার ছড়িয়ে পড়তেই দিনভর রাজ্য রাজনীতিতে জোর চৰ্চা শুরু হয়। যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বিধায়ক চন্দনা বাউরি ও তার গাড়ির চালক কৃষ্ণ কুন্ডু। স্বাভাবিক ভাবেই বিজেপি জেলা নেতৃত্ব এই কেচ্ছা কাণ্ডে বিব্রত। এ বিষয়ে তারা ঘটনাটিকে তৃণমূলের অপপ্রচার বলে ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ইতিমধ্যে ওই চালকের সঙ্গে নতুন করে মাথাভর্তি সিন্দুর নিয়ে বিধায়কের একটি ছবি ভাইরাল হয়ে পড়েছে। চন্দনা বাউরিও বলেছেন আমাদের স্বামী স্ত্রীর মনোমালিন্যে গাড়ি করে থানায় গিয়েছিলাম। এই ঘটনাকে বিরোধীরা অন্যরকম ইস্যু করে আমার নামে কুৎসা করছে।
এদিকে গাড়ির চালকের স্ত্রী রুম্পা কুন্ডু চন্দনা বাউরী ও তার স্বামী কৃষ্ণ কুন্ডুর বিরুদ্ধে গঙ্গাজলঘাটি থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন। চন্দনাদেবীর বাড়ি গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের কিলাই গ্রামে এবং কৃষ্ণ কুন্ডুর বাড়ি লছমনপুর। কৃষ্ণ কুন্ডু নিজেও বিজেপির একজন সক্রিয় কর্মী। তাকে নির্বাচনে শালতোড়া বিধানসভার কো-কনভেনার নিযুক্ত করা হয়। তার একটি গাড়ি আছে সেটি নিজেই চালাতেন এবং গাড়িটি ভাড়ায় খাটাতেন।
নির্বাচনের আগে থেকেই তিনি দলের প্রার্থী চন্দনার প্রচারে নিজের গাড়িটি কাজে লাগিয়েছিলেন। ভোটে জিতে চন্দনা বিধায়ক হলে কৃষ্ণ কুন্ডুর গাড়িটিই ব্যবহার করছেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন একসাথে থাকতে থাকতে তারা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। এ নিয়ে দুই পরিবারে অশান্তিও শুরু হয়। বুধবার ছিল মনসা পূজের পরের দিনের উৎসব। রাতে খাওয়া দাওয়ার পর চন্দনা কৃষ্ণর সাথে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে দেউলী শ্মশান কালী মন্দিরে বিয়ে করেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
সাংবাদিকরা মধ্য রাতেই খবর পেয়ে তাদের দুজনকে ধরার জন্য ধাওয়া করেন। চন্দনা ও কৃষ্ণ কুন্ডু সাংবাদিকদের তাড়া খেয়ে সোজা গঙ্গাজলঘাঁটি থানায় এসে ঢুকে পড়েন। সারারাত থানার সামনে সাংবাদিকরাও ওৎ পেতে বসে থাকেন। সকাল হতেই সারা রাজ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে। রাতেই চন্দনা দেবীর স্বামী শ্রবণ বাউরি ও ৪ জন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ান খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। চন্দনা দেবীর নাবালক ৩ ছেলে মেয়েও কান্না জুড়ে দেয়। শিশু পুত্রটিকে কোলে নিয়ে শ্রবণ বাউরি সকালে থানায় আসেন। বেলা ১০ টা নাগাদ তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন।
বিধায়কের স্বামী শ্রবণ বাউরি বলেন, মনসা পুজোর উৎসবে একটু নেশা করে নেশার ঘোরে বউকে বকাবকি করে ফেলেছিলাম। ও রাগের মাথায় বাড়ি ছেড়ে থানায় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে এসেছিল। এর বেশি কিছু নয়। থানায় বসে আমরা নিজেরাই ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে নিয়েছি। চন্দনা দেবীও বলেন, বিরোধী দল যেভাবে আমাকে নিয়ে অপপ্রচার করছে তা লজ্জাজনক।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নির্বাচনী প্রচারে সে চন্দনা বাউরিকে তুলে ধরে বলেছিলেন, চন্দনাদের মত দিনমজুর পরিবারের সদস্যরাই বিজেপির মুখ। সেই চন্দনা বাউরি এই ৪ মাসের মধ্যেই যেভাবে নরেন্দ্র মোদীর মুখ পুড়িয়ে দিলেন তাতে জেলা নেতৃত্ব ভীষণভাবে বিব্রত। দলের গঙ্গাজলঘাঁটির মন্ডল সভাপতি ভাস্কর লাহা বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য সবারই হয়। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। সেটাকে বিরোধীরা যেভাবে কেচ্ছা করছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। একজন মহিলা জন প্রতিনিধির চরিত্রহনন করছে তৃণমূল বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে দলের আইনজীবী সেলের সঙ্গে কথা বলে এর ব্যবস্থা নেব।
এদিকে কৃষ্ণ কুন্ডুর স্ত্রী রুম্পা কুন্ডু থানায় লিখিত অভিযোগ করে জানিয়েছেন বিধায়ক তাকে হুমকি দিয়ে ভয় দেখাতেন। স্বামীও মারধর করত। বুধবার রাতে তারা যে বিয়ে করেছে সে কথা জানতে পারি বিধায়কের ভাইয়ের কাছ থেকেই। কৃষ্ণ কুন্ডুও দুই নাবালক ছেলের বাবা। এই ঘটনাকে মিথ্যা বলে তার দাবি।
গঙ্গাজলঘাঁটি ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি জীতেন গরাই বলেন, শালতোড়ার মানুষ বুঝতে পারছেন তারা কাকে ভোট দিয়ে বিধানসভায় পাঠিয়েছেন। চন্দনা বাউরির বিরুদ্ধে প্রার্থী ছিলেন তৃণমূলের যুব নেতা সন্তোষ মন্ডল। তিনি বলেন, বিজেপির চরিত্রই এই। কেউ বউ ছাড়ছে তো কেউ স্বামী ছেড়ে পরকীয়ায় মেতে জীবন ভোগ করছে। মানুষের কাজ দেখার সময় নেই বিজেপি নেতাদের। অভিযোগের ভিত্তিতে ৪৯৮-এ, ৪৯৪ সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্ৰে জানা গেছে।

