আমাদের ভারত, ৮ মে: করোনা আক্রান্তদের শরীরে এক রকম ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটছে যাকে মিউকরমাইকোসিস বলা হচ্ছে। এটি ব্ল্যাক ফাংগাল সংক্রমণ নামেও পরিচিত। গুজরাট, দিল্লি, মহারাষ্ট্রে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে প্রতিদিন।
জানা যাচ্ছে, আমেদাবাদের বিজে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এই রোগে সংক্রমিত ৬৭ জনের সন্ধান পাওয়া গেছে। গত কুড়ি দিনের মধ্যে এদের সংক্রমণ ঘটেছে। এদের মধ্যে ৪৫ জনের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এর জন্য ছয় থেকে সাতটি দৈনিক অস্ত্রপ্রচার করতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
মহারাষ্ট্রে এখনো পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এই মিউকরমাইকোসিসের কারণে। এছাড়াও আক্রান্ত ২০০ জনের চিকিৎসা চলছে বলেও জানা গেছে। দিল্লির প্রথম সারির এক হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন করোনার সঙ্গে এই সংক্রমণ জুড়ে যাওয়ায় নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে চিকিৎসক মহলকে।
এই রোগে আক্রান্তদের দ্রুত ওজন কমছে, দৃষ্টিশক্তি চলে যাচ্ছে, নাক ও থুতনির হাড়ের ক্ষতি হচ্ছে। বেশকিছু বিশেষজ্ঞদের মতে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত যে করোনা রোগীদের স্টেরয়েড দেওয়া হচ্ছে, তাদের শরীরে এই রোগের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে অর্থাৎ তাদেরই রোগ হচ্ছে। এমস প্রধান রণদীপ গুলেরিয়া বলেছেন, করোনার কারণে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে এসেছে। আর সেই কারণেই নানারকম ফাংগাল ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমনের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। ফলে যেসব করোনা রোগীদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের শরীরে এই সংক্রমণ ঘটার সম্ভবনা অত্যন্ত বেশি হারে তৈরি হচ্ছে। এছাড়াও একটানা স্টেরয়েড শরীরে যাওয়ার পর তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরৈ কমছে। ফলে আরো বেশি করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, আর সেই কারণেই এই মিউকর মাইকোসিসের মতো রোগের প্রাদুর্ভাব হচ্ছে।

