আমাদের ভারত, ২৮ জুলাই: বিজেপির জন্য ভোট প্রচারে বেরিয়ে ভাষণ দিতে গিয়ে নিজের জনপ্রিয় ছবির সংলাপে বারবার বলেছেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। সেটা নিয়েই অভিনেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, যে তার জনপ্রিয় সংলাপের কারণেই রাজ্যে হিংসা ছড়িয়েছে। এই অভিযোগের বিরুদ্ধে আদালতে যান অভিনেতা। সেই মামলায় আজ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দ জানিয়ে দেন তিনি মনে করেন না যে রাজ্যে হিংসা ছড়ানোর জন্য মিঠুন চক্রবর্তীর জনপ্রিয় ছবির সংলাপই দায়ী। বিচারপতি চন্দ জানতে চান, সিনেমার জনপ্রিয় সংলাপগুলি বলার পর হিংসা ছড়িয়েছে এমন কোনও উদাহরণ কি দেখানো যাবে?
বিজেপির ব্রিগেড সমাবেশ থেকে শুরু করে ভোট প্রচারে একাধিক জায়গায় গিয়ে নিজের জনপ্রিয় সিনেমার একাধিক সংলাপ বলেছেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। বিজেপির হয়ে একাধিক জায়গায় ভোট প্রচারেও নিজের বিভিন্ন ছবির সংলাপ বলতে শোনা গেছে তাকে। পরে মিঠুনের বিরুদ্ধে মানিকতলা থানায় এফআইআর করেন মৃত্যুঞ্জয় পাল নামে এক ব্যক্তি। অভিনেতার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, উস্কানিমূলক মন্তব্য, শান্তি ভঙ্গের চেষ্টা, বিভিন্ন গোষ্ঠী ও বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়। কিন্তু সেই এফআইআর খারিজের জন্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মিঠুন চক্রবর্তী। আদালত তাকে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেয়। মিঠুনকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।
বুধবারের মামলার শুনানিতে মামলার সরকারি কৌঁসুলি শাশ্বত গোপাল মুখোপাধ্যায়কে বিচারপতি বলেন, মিঠুনের সংলাপের কারণে যে ভোট পরবর্তী অশান্তি তৈরি হয়েছে তা ঠিক নয় বলে মনে করেন তিনি। বিচারপতি এই প্রসঙ্গে রমেশ সিপ্পি পরিচালিত জনপ্রিয় হিন্দি সিনেমা “শোলে”র কথা টেনে আনেন। বিচারপতি বলেন খলনায়ক চরিত্র আমজাদ খান থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত হাজার হাজার জনপ্রিয় ডায়ালগ শোনা গিয়েছে, কিন্তু আমি কি বলতে পারি যে তা থেকে কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেছে? তাই মিঠুনের জনপ্রিয় সংলাপে যে হিংসায় মদত দিয়েছে তাও মানতে নারাজ বিচারপতি। তাই এই নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন নেই বলেই তার মত। বিচারপতি কৌশিক চন্দ বলেন, মিঠুন চক্রবর্তীর ডায়লগ জনপ্রিয়, তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন যে ডায়লগ তিনি বলেছেন। এরপর কি তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে? বিচারপতির মন্তব্য, ভোট পরবর্তী অশান্তি ছড়ানোর সঙ্গে মিঠুন চক্রবর্তীর ডায়লগের সম্পর্ক থাকতে পারে না।
আগামী মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। সেদিন এই মামলার তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট আদালতে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে।

