আমাদের ভারত, ২৭ ডিসেম্বর: মাদার টেরেজার প্রতিষ্ঠান মিশনারি অফ চ্যারিটির সমস্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিল কেন্দ্র। তদন্তের জন্য সবকটি অ্যাকাউন্টের আর্থিক লেনদেন বন্ধ করার কথা কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে মাদার টেরেজার হাউসগুলি তরফের কোনো বয়ান এখন পাওয়া যায়নি। তবে কেন্দ্রের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সম্প্রতি গুজরাটে মাদার টেরিজার সংস্থার বিরুদ্ধে ধর্মান্তকরণের অভিযোগ ওঠে। সেখানে মিশনারিজ অফ চ্যারিটির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। গুজরাটের বদোদরা শহরে এই সংগঠনের যে হোম রয়েছে তার বিরুদ্ধে ধর্মান্তকরণ ও হিন্দুধর্মের ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে। যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে সংগঠনের তরফে। তাদের দাবি হোমে কোনওভাবেই জোর করে কারো ধর্মান্তকরণ করানো হয়নি। অন্যদিকে পাঞ্জাবের এক তরুণীকে জোর করে এক খ্রিস্টান যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বদোদরার হোমের বিরুদ্ধে। স্থানীয় পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন ওই অভিযোগের ভিত্তিতে আলাদা করে তদন্ত চলছে। আর জেলা সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক আধিকারিক ময়ঙ্ক ত্রিবেদীর অভিযোগ, ওই হোমের কার্যকলাপের মাধ্যমে হিন্দুধর্মের ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে এবং হোমের অল্প বয়সী মেয়েদের খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করা হয়। গুজরাটের ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন ২০০৩ এর আওতায় মকরপুরা থানায় এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করেছেন ময়ঙ্ক।
তার বক্তব্য গত ৯ ডিসেম্বর জেলা শিশু কল্যাণ কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে হোমে গিয়েছিলেন তিনি। এফআইআর-এ তিনি বলেছেন, সেখানে তিনি দেখেছেন হোমের মেয়েদের জোর করে খ্রিস্টানদের ধর্মীয় গ্রন্থ পড়ানো হয়। তাদের গলায় ক্রস পড়তে বলা হয় এবং তাদের খ্রিস্টানদের প্রার্থনায় অংশ নিতে বলা হয়। তার আরও অভিযোগ হিন্দু মেয়েদের আমিষ খাবার খেতে দেওয়া হয়। তার দাবি, এভাবেই প্রকারান্তরে মিশনারিজ অব চ্যারিটি কর্তৃপক্ষ মেয়েদের জোর করে ধর্মান্তকরণের পথে নিয়ে যাচ্ছে।
ময়ঙ্ক জানিয়েছেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই সংগঠন নিয়মিত হিন্দুধর্মের ভাবাবেগে আঘাত করেছে। পুলিশ ময়ঙ্কের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে।
তবে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই কেন্দ্রের এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার পদক্ষেপ কিনা তা অবশ্য জানা যায়নি।
কলকাতার পাশাপাশি ভারত ও দেশের বাইরে বহু জায়গায় ছড়িয়ে আছে মাদার টেরিজার মিশনারিজ অফ চ্যারিটি। ভারতেই ২৪৩টি হোম রয়েছে এই সংস্থার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার সমালোচনা করে টুইটারে লিখেছেন, “বড়দিনের উৎসবের মধ্যে মাদার টেরিজার মিশনারিজ অব চ্যারিটি সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কেন্দ্র সরকার বন্ধ করে দিয়েছে শুনে আমি বিস্মিত”। তিনি আরও লিখেছেন,”মিশনারিজ অফ চ্যারিটির ২২ হাজার রোগী ও কর্মীরা খাবার এবং ওষুধ পাচ্ছেন না। আইন সবার ওপরে হলেও মানবিক কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাওয়া ঠিক নয়।”

