স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ৯ জুন: মাটি খুঁড়ে নিখোঁজ গৃহবধূর পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার। সম্পত্তি নিয়ে বিবাদে সৎ মাকে খুন করে মাটিতে পুঁতে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ছেলের বিরুদ্ধে। গ্রেফতার সৎ ছেলে সহ চার। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় রায়গঞ্জে।

মৃতার নাম অর্চনা বর্মন, বয়স ২৮। দীর্ঘ প্রায় আটমাস যাবৎ ওই মহিলা নিখোঁজ ছিলেন। বুধবার মধ্যরাতে রায়গঞ্জের কমলাবাড়ি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কলোনীপাড়া গ্রামে জমির ক্যানেলে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
জানাগেছে, রায়গঞ্জের রামপুরের বাসিন্দা অর্চনার বিয়ে হয়েছিল কলোনীপাড়ার অজয় বর্মনের সাথে। অর্চনা ও অজয় দু’জনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। বছর খানেক আগে একটি মামলায় গ্রেফতার হওয়া অজয়ের মৃত্যু হয় বিচারাধীন অবস্থায়। এর কিছুদিন বাদেই বাড়ি থেকে আচমকা অর্চনা নিখোঁজ হয়ে যায় বলে অভিযোগ দায়ের হয় কর্নজোড়া ফাঁড়িতে।

এদিকে পুলিশ তদন্তে নেমে সৎ ছেলে গোপাল বর্মনকে গ্ৰেপতার করে। কিন্তু তথ্য প্রমাণ না মেলায় তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। এদিকে দিন কয়েক আগে সোনা তপন নামে স্থানীয় তৃণমূল নেত্রীর কাছে দুই যুবক গিয়ে অর্চনাকে খুনের ঘটনার বৃত্তান্ত বলে। এমনকি তারাই যে প্যাকেটবন্দি মৃতদেহ মাটি খুঁড়ে পুঁতে দেয় তাও জানায়। একদল দুষ্কৃতি এই কাজ করার সময় তারা দেখে নেওয়ায় তাদের আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখালে তারা বাধ্য হয়ে একাজ করে এমনটাই তৃণমূল নেত্রীর কাছে জানায় বলে দাবি। এরপর ওই তৃণমূল নেত্রী স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানালে বুধবার বিকেল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত কলোনীপাড়ায় জমির ভেতরে ক্যানেলে মাটি খুঁড়ে মৃতদেহ উদ্ধারে নামে পুলিশ। কিন্তু রাতে মাটি খুঁড়ে প্রথমে বস্তাবন্দি ছোট পশুর মৃতদেহ উদ্ধার হয়।

এদিকে হাল না ছেড়ে আবারো সোনা টোপ্নো সহ প্রত্যক্ষদর্শীকে সাথে নিয়ে পুলিশ ওই এলাকায় খনন শুরু করে। বুধবার রাত প্রায় তিনটে নাগাদ প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়ানো মানব শরীরের পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে নেমে জানা যায়, সেটি নিখোঁজ অর্চনা বর্মনের মৃতদেহ। এরপর পূর্বের অভিযোগ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে মৃতার সৎ ছেলে গোপাল বর্মন সহ বসন্ত বর্মন, অচিন্ত্য বর্মন ও ফুলেশ্বর মাহাতো নামে চার অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের রায়গঞ্জ জেলা আদালতে তোলা হয়েছে। এদিকে বিকেল হয়ে যাওয়ায় মৃতদেহের ময়না তদন্ত হয়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

