চাকরি বিক্রি ও শিক্ষক বদলির নাম করে বহু কোটি টাকা আত্মসাৎ, অভিযোগ বনগাঁ হাইস্কুলের শিক্ষকের বিরুদ্ধে

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৯ জুন: বাগদার চন্দনের পর এবারে চাকরি দেওয়া ও শিক্ষক বদলির নাম করে কোটি কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠল এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এমনই অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।

জানা গিয়েছে, তিনি উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ হাইস্কুলের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক সুকান্ত মাহাতো ওরফে গোপাল মাহাতো। যদিও বনগাঁর তৃণমূলের প্রাক্তন পৌর প্রধান শংকর আঢ্য বলেন, অনেক আগেই ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আমার কাছে বাগদা, বনগাঁ, গাইঘাটা থেকে বেশ কয়েকজন অভিযোগ জানিয়েছিল।

সূত্রের খবর, শিক্ষক গোপাল মাহাতো তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী। তাঁর বনগাঁ শহরের উপর একটি বাড়ি ও ছয়ঘড়িয়া এলাকায় বিশাল সম্পত্তি রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ালো গোটা বনগাঁ মহকুমায়। সেই পোস্টে চন্দনের ছায়ার উল্লেখ করে এক শিক্ষকের নাম উল্লেখ করে পোস্টটি করা হয়েছে।

সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হওয়া অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের প্রাক্তন মন্ত্রী উপেনের ফেসবুক পোস্টটি আদালতের নজরে আনেন মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। যেখানে মন্ত্রী উপেন সরাসরি চন্দন মণ্ডলের নাম উল্লেখ না করলেও, জনৈক ‘বাগদার রঞ্জন’এই দুর্নীতির হোতা বলে উল্লেখ করেছিলেন। এর পরই রাজ্যজুড়ে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে ‘রঞ্জন’। জনৈক বাগদার ‘রঞ্জন’ ওরফে চন্দন মণ্ডলের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। চন্দনের তদন্ত শুরু হতে না হতেই এবারে নাম উঠে এলো এক স্কুল শিক্ষকের নাম। এই নিয়ে রাজনৈতিক চর্চা চরমে।

এরপর যুগশঙ্খের প্রতিনিধি তদন্ত করে বাগদার বাসিন্দা মৌসুমী ঘোষ নামে এক মহিলার সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, মাস ছয় আগে আমার ভাইকে চাকরি দেওয়ার নাম করে গোপাল মাহাত চার লক্ষ টাকা নিয়েছে। তিন মাসের মধ্যে চাকরি দেওয়ার কথা আজ ছয় মাস হতে চলল, টাকা চাইতে গেলে ভয় দেখাছে।

বনগাঁর বাসিন্দা বেদানা ঘোষের অভিযোগ, বড় ছেলেকে সেচ দফতরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাড়ে চারলক্ষ টাকা নিয়েছে গোপাল মাহাত, টাকা চাইতে গেলে হুমকি দেয় গোপাল। ভয়ে কাউকে কিছু বলতেও পারছি না।

এবিষয়ে তৃণমূলের বনগাঁ জেলা সাংগঠনিক সভাপতি গোপাল শেঠ বলেন, সুকান্ত মাহাতো ওরফে গোপাল মাহাতো এক জন হাইস্কুলের শিক্ষক। শুধু মাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ভাইরাল করে তাঁকে অভিযুক্ত করা যায় না। সঠিক তদন্ত করা পুলিশের কাজ। যদি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে তারা থানায় এসে অভিযোগ করুক।

অন্যদিকে বনগাঁর তৃণমূলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান শংকর আঢ্য বলেন, এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনো সংযোগ নেই। এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগেই বেশ কিছু অভিযোগ আমার কাছে এসেছিল। আমি এই নিয়ে সাবধান করেছিলাম তাঁকে।

বিজেপি নেতা দেবদাস মণ্ডল বলেন, শিক্ষক সুকান্ত মাহাতো ওরফে গোপাল মাহাতকে ইমিডিয়েট গ্রেফতার করে সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া উচিত। তাহলেই বনগাঁর প্রচুর নেতার মুখোশ খুলে যাবে। তবে এর সঙ্গে বাগদার চন্দন মণ্ডলের হাত আছে বলে জানিয়েছেন দেবদাসবাবু।

অভিযোগ অস্বীকার করে গোপাল মাহাত বলেন, আমাকে বদনাম করার জন্য কিছু ব্যক্তি উঠেপড়ে লেগেছে। আমার নামে এখনও কোনো পুলিশে অভিযোগ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *