আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২৭ আগস্ট: অনেক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে এনজেএমসি জুটমিল। সেই বন্ধ জুটমিল খোলার জন্য ৪ নম্বর গেটের ভিতরে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। রাজ্যের শ্রমদপ্তরের মন্ত্রী বেচারাম মান্না, ব্যারাকপুরের বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে এই বৈঠক হয়। এদিন কারখানায় এসে কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেন শ্রমমন্ত্রী এবং তিনি আশ্বাস দেন পুনরায় খোলা হবে এই জুট মিল। অনেক দিন বন্ধ থাকার ফলে এই জুটমিলের প্রত্যেকটা যন্ত্রাংশ বসে গিয়েছে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে। সেগুলি সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে আবারও শুরু হতে পারে জুটমিলের কাজকর্ম।
প্রসঙ্গত, সাসপেনশন অফ ওয়ার্কের নোটিশ দিয়ে ২০১৫ সাল থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয় এনজেএমসি এই মিল। তবে থেকে বেকার হয়ে পড়েছেন এই মিলের শ্রমিকরা। রাজ্যে বন্ধ জুট মিলগুলি খোলার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। আর সেই জন্য এই মিলটির সমস্ত অবস্থা খতিয়ে দেখে পুনরায় মিলটি খোলার বিষয়ে উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্যের শ্রম দপ্তর। এদিনের এই বৈঠকে মন্ত্রী ছাড়াও জগদ্দল বিধানসভার বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম, টিটাগর পৌরসভার পৌর প্রশাসক প্রশান্ত চৌধুরী, খরদা পৌরসভার পৌর প্রশাসক নিলু সরকার সহ আরও বিশিষ্ট জনেরা উপস্থিত হন।

এদিন বৈঠক শেষে মিল থেকে বেরিয়ে খরদা পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কুলি লাইন অঞ্চলে যেসব জুট মিলের শ্রমিক পরিবার বসবাস করেন তাদের সাথে এসে কথা বলেন মন্ত্রী বেচারাম মান্না। এদিন মন্ত্রী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাজ্যের বন্ধ জুট মিল গুলি পুনরায় খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বন্ধ থাকা বেশ কয়েকটি মিল চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সব বন্ধ মিলগুলির বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেগুলি খোলা সম্ভব সেগুলি খোলার কথা বলা হয়েছে। আমি নিজে মিলে কাজ করেছি একসময়। তাই আজ নিজে মিলের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে গেলাম। আমাদের উদ্যেশ্য হচ্ছে মিলটি খোলা এবং ফের উৎপাদন শুরু করা। মিলটি দেখে মনে হল এই মিলটিতে পুনরায় কাজ চালু হতে পারে। আর সেই জন্য আমরা মিলের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের সাথেও বৈঠক করলাম। আশা করছি খুব শীঘ্রই খুলে দেওয়া যাবে এই মিল।”
এদিনের এই বৈঠকে মন্ত্রী বেচারাম মান্না ও বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী ছাড়া উপস্থিত ছিলেন খরদা পৌরসভার পৌর প্রশাসক নিলু সরকার, প্রশান্ত চৌধুরী, ব্যবসায়ী কমল দাস সহ বিশিষ্ট জনেরা।

