মেদিনীপুরের কেরানীচটির একটি তিন পেয়ে কুকুর ছানাকে দত্তক দিল মিডনাপুর অ্যান্ড খড়্গপুর স্ট্রিট আ্যনিমেল লাভার্স গ্রুপ

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ২৩ জানুয়ারি: মেদিনীপুর শহরের কেরানীচটির একটি তিন পেয়ে কুকুর ছানাকে দত্তক পাইয়ে দিল শিবু রানাদের পশুপ্রেমী সংগঠন। রবিবার ওই তিন পা ওয়ালা কুকুর বাচ্চাটি সহ আরও দুটি কুকুর বাচ্চাকে কেরানীচটির রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্মার এক ব্যক্তির কারখানায় রাখা হয়েছে বলে শহরের বিশিষ্ট পশুপ্রেমী শিবু রানা জানিয়েছেন। কারখানার মালিক ৩টি কুকুর ছানাকেই দত্তক নিয়েছেন।

দু’মাস বয়সী কুকুর ছানার দলটি কেরানীচটি সংলগ্ন জাতীয় সড়কে থাকার ফলে যে কোনও সময় গাড়ি চাপা পড়ার সম্ভাবনা ছিল বলে কয়েকদিন ধরে ওই তিন পা ওয়ালা কুকুর ছানাটিকে দত্তক নেওয়ানোর চেষ্টা করছিল শিবু দে’র মিডনাপুর অ্যান্ড খড়্গপুর স্ট্রিট আ্যনিমেল লাভার্স গ্রুপ। তারা জানিয়েছেন, কেরানীচটি এলাকায় জন্ম নেওয়া কুকুর বাচ্চাগুলির অধিকাংশই গাড়ি চাপা পড়ে মারা যায়।

তারা গত ৫ বছরে ১৫ হাজার কুকুরের চিকিৎসা করেছে। যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর পার্ভো রোগ। মারাত্মক এই পার্ভোভাইরাসে আক্রান্ত কুকুরদের ৯০ শতাংশই মারা যায়। রাস্তার আক্রান্ত কুকুরদের স্যালাইন দেওয়া, ইনজেকশন দেওয়া, আহত কুকুরদের চিকিৎসা করা ইত্যাদি সবই করে শিবু এবং তাঁর সহযোগী রিমা কর্মকার, রাজা দাস, বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য, সৌরভ দাস অধিকারী, ববি সিং, সৌলিনী দে, দেবরাজ চক্রবর্তী, নীলাদ্রি শেখর দে, প্রিয়াঙ্কা সাহা, কৌশানি রায়, সমীর দত্ত, অগ্নিপ্ৰভ সেন, ঋক চৌধুরী, রতন তামাংরা।

শিবুরা জানিয়েছেন, লকডাউন শুরু হওয়ার সময় সব চেয়ে বিপদে পড়েছিল রাস্তার কুকুররা।হিসাব অনুযায়ী খড়্গপুর শহরে রাস্তার কুকুরের সংখ্যা ৭ হাজারের মত আর মেদিনীপুর শহরে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার।”

এরমধ্যে লোকালয়ে থাকা কুকুরগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া খাবার পেলেও বাজার এলাকার কুকুরগুলো লকডাউনের সময় সমস্যায় পড়ে। ওই সময় প্রতিদিন দুই শহরের ১৫০০ কুকুরকে রান্না করা খাবার দিয়েছে শিবুরা। প্রতিদিন ১কুইন্টাল চাল রান্না করা হত। বেশকিছু ব্যবসায়ী, সহৃদয় মানুষ সাহায্য করে গেছেন এই কাজে।

সম্প্রতি কুকুরদের জন্মনিয়ন্ত্রণের কাজও শুরু করেছে মিডনাপুর অ্যান্ড খড়গপুর স্ট্রিট আ্যনিমেল লাভার্স গ্রুপ। জানুয়ারিতে ৪০টি কুকুরকে বন্ধ্যাকরণ করা হয়েছে। মার্চে আরো ৫০টি কুকুরের বন্ধ্যাকরণ করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *