আমাদের ভারত, ১৪ ডিসেম্বর: রবিবার যুবভারতী পরিদর্শনে যান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। পরে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, ঘটনাস্থল ঘুরে যা যা দেখেছেন, তার ভিত্তিতে একটি রিপোর্ট তৈরি করবেন। ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে রাজ্য সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
শনিবার যুবভারতীতে মেসিকে এক ঝলক দেখার আশায় হাজার হাজার দর্শক মোটা অঙ্কের টিকিট কেটেছিলেন। সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ মেসির গাড়ি স্টেডিয়ামে ঢোকে। সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো ডি পল। কিন্তু অনুষ্ঠান জুড়ে ফুটবল তারকাদের ঘিরে রাখেন আয়োজক ও রাজ্যের নেতা-মন্ত্রীরা।
গ্যালারি থেকে মেসিকে স্পষ্টভাবে দেখতে না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন দর্শকরা। মেসি মাঠ ছাড়ার মিনিট কুড়ির মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বোতল ছোড়া, চেয়ার ভাঙ্গচুরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় যুবভারতী। এই ঘটনার মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে পরে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে বিধাননগর পুলিশ। রবিবার তাঁকে আদালতে পেশ করে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।
গতকাল বিকেলেই যুবভারতীতে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল। কিন্তু গেট বন্ধ থাকায় বাইরে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর ফিরে যেতে হয়। রবিবার ফের মাঠ পরিদর্শনে এলেন তিনি। সেখানেই ছিল মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
এদিন রাজ্যপাল বলেন, “আমি ঘটনাস্থল দেখতে এখানে এসেছিলাম। ভক্তদের কাছে মেসি হলেন মাসিয়া। তাঁর সফরে বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। সরকার, পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগের ব্যর্থতা- সবকিছুর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে হবে।”
সেই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, “আমি গঠিত কমিটির সাথে দেখা করেছি। তারা বিস্তারিত তদন্ত করছে। এর পেছনে আরও অনেক কিছু আছে, যা বাইরে থেকে বোঝা যাচ্ছে না। এই ঘটনাটি কলকাতার মানুষের জন্য অবর্ণনীয় লজ্জা এনে দিয়েছে। একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর থাকা উচিত। আমি ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলার পর আমার রিপোর্ট জমা দেব।”

