“আপনারা যাঁরা এপার বাংলায় চলে এলেন, ওপারে ফেলে আসা স্বজনদের কথা একবারও ভেবেছেন?
“পাকিস্তানের কবল থেকে এত কষ্ট করে স্বাধীনতা পাওয়ার পরেও যদি এই অবস্থা চলতে থাকে, তা খুব দুঃখের। “
অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ১৮ অক্টোবর: “আমরা আমাদের দেশ ছেড়ে আসব না। যত দিন দেহে প্রাণ থাকবে সম অধিকারের দাবিতে লড়াই করব।“ ১৭ অক্টোবর কলকাতায় এক ঘরোয়া সমাবেশে এ কথা জানালেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ (যুদ্ধ) ট্রাইব্যুনালের সভাপতি তথা বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, আইনজীবী রাণা দাশগুপ্ত।
কেমন আছে বাংলাদেশের হিন্দুরা? দক্ষিণ কলকাতায় বিপ্লবতীর্থ চট্টগ্রাম স্মৃতি পরিষদে সমবেতদের তিনি বলেন, “আপনারা যাঁরা এপার বাংলায় চলে এলেন, ওপারে ফেলে আসা স্বজনদের কথা একবারও ভেবেছেন? পাকিস্তান আমলের ২৫ বছর পূর্ব বাংলায় হিন্দুদের যেমন কেটেছে, অবস্থার কি আদৌ কোনও বদল হয়েছে? আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা সত্বেও বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধের শিকার হচ্ছে মূলত হিন্দুরাই। সংখ্যালঘুর সংখ্যা দ্রুত কমছে।
অর্থনীতির অধ্যাপক ডঃ আব্দুল বারাকাত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন, এভাবে নিশ্চিহ্নকরণ চলতে থাকলে ২০ বছরে বাংলাদেশ হিন্দুশূন্য হয়ে যাবে। পাকিস্তানের কবল থেকে এত কষ্ট করে স্বাধীনতা পাওয়ার পরেও যদি এই অবস্থা চলতে থাকে, তা খুব দুঃখের। ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে যদি আফগানিস্তান হিসাবে দেখতে হয়, সেটা হবে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এই বাংলাদেশ দেখার জন্য মু্ক্তিযোদ্ধা হইনি। যুদ্ধে আমি আগরতলা ফ্রন্টে ছিলাম। ১৯৬৬ সালে আমরা সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু পেলাম কই?
এত ত্যাগ স্বীকারের পরেও বাংলাদেশে অধিকার পাইনি। সবাই যে খারাপ, তা নয়। অনেক সজ্জন, ভাল লোকের সাহচর্য পেয়েছি। যেমন চট্টগ্রামের স্থানীয় সাংসদের পুত্র, শিক্ষামন্ত্রী আন্তরিকভাবে বলেছেন, চাচা আপনাদের সঙ্গে আছি।
আপনারা যে দেশ ছেড়ে এসেছেন, আমরা সেটা আঁকড়ে আছি। কিন্তু জঙ্গলে ডুবে আছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরেও কেন এত মানুষ চলে যাবেন? শেখ হাসিনার আমলেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু আমরা আমাদের দেশ ছেড়ে আসব না। যতদিন প্রাণ আছে সমঅধিকারের দাবিতে লড়াই করব।”

