অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ১ নভেম্বর: “উজ্জ্বল আলোর দিন নিভে যায়,
মানুষেরো আয়ু শেষ হয়!
পৃথিবীর পুরানো সে- পথ
মুছে ফেলে রেখা তার-
কিন্তু এই স্বপ্নের জগৎ
চিরদিন রয়!
সময়ের হাত এসে মুছে ফেলে আর সব ,- নক্ষত্রেরো আয়ু শেষ হয় !”
— ‘স্বপ্নের হাত’ (‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’), জীবনানন্দ দাস।
সবই শেষ হয়। কিন্তু জীবদ্দশায় রয়ে যায় স্মৃতি। মাটির টান। না হলে উত্তর চব্বিশ পরগণার বারাসাতের বধূ সুস্মিতা দেবনাথ সামাজিক মাধ্যমে এভাবে খোঁজ করেন তাঁর শিকড়ের? ফেসবুকে ‘বঙ্গভিটা’ গ্রুপে তিনি লিখেছেন, “আমাদের ইচ্ছে আছে আপনাদের মাধ্যমে শেকড় এর সন্ধান পেলে একবার হলেও চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে যাওয়ার….
আমি ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগণার বারাসাত এর বাসিন্দা। আমার বর এর ঠাকুমার মুখে শুনেছিলাম বাংলাদেশের চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে তাদের ভিটেমাটির কথা। আমার বরের ঠাকুমার বাবা ছিলেন বাংলাদেশের সন্দ্বীপ এর বাসিন্দা। তিনি দেশভাগের পূর্বে চট্টগ্রামের একজন বিখ্যাত উকিল ছিলেন, নাম কমলাকান্ত মজুমদার, নিবাস উকিল বাড়ি দক্ষিণ সন্দ্বীপ শিবের হাট সাতঘরিয়া। আর ঠাকুমার শ্বশুর বাড়ি দক্ষিণ সন্দীপে। ওনারা দেশভাগ হওয়ার আগেই পশ্চিম বঙ্গের বারাসতে চলে আসেন। ওনাদের বাড়িতে রাধা কৃষ্ণের মন্দির ছিলো। সেই জায়গার কোনও সূত্র ‘বঙ্গ ভিটা’র বন্ধুরা কি দিতে পারে? ঠাকুমা ৯৫ বছর বয়সে সদ্য প্রয়াত হন। আপনাদের সহযোগিতায় শেকড়ের খোঁজ পেলে আমরা সপরিবারে সন্দ্বীপে বেড়াতে যেতে চাই।“
তাঁর বরের সদ্য প্রয়াত ঠাকুমা হাসি মজুমদারের ছিবি দিয়ে সুস্মিতা লিখেছেন, “উনি চট্টগ্রামের বিখ্যাত উকিল ছিলেন কমলাকান্ত মজুমদারের বড় মেয়ে।“
যেটা আশার কথা, স্থানীয় শিক্ষক নরোত্তম বণিক জবাবে লিখেছেন, “ওনাদের বাড়ির নাম এখনো শ্রী কমলা কান্ত উকিল বাড়ি হিসেবে পরিচিত। এটি সারিকাইত ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। এই বাড়িতে সন্দ্বীপের সনাতনী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ শশী ধাম মন্দির অবস্থিত। তাছাড়া এই বাড়ির পুরাতন বাসিন্দাদের মধ্যে বর্তমানে প্রফুল্ল মহাজনের পুত্র প্রীতিলাল মজুমদার এবং প্রাণহরি মজুমদার রয়েছেন। আমিও সেই বাড়ির মন্দিরের সাথে জড়িত আছি। আপনি প্রয়োজনে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন।“

