আমাদের ভারত, হুগলী, ১০ জুন: হুগলি জেলায় বেআইনি ভাবে কারখানা বন্ধ করা রুখতে নাগরিক সমাজ এবং শ্রমিকরা যৌথ আন্দোলনের পথে যেতে চায়। শুক্রবার শ্রম দফতরে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।
সকল সহযোগী সংগঠনের পক্ষে শ্রমিক কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় জানান, কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া নিত্য দিনের ঘটনা হয়ে গেছে। চন্দননগরের দুই বিশিষ্ট চিকিৎসক অলক রায় চৌধুরী এবং ভাস্কর দাস সহ বিভিন্ন সংস্কৃতি কর্মী, শিক্ষাব্রতী ও অধ্যাপকরা শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সাথে যৌথভাবে স্মারকলিপি
দিয়েছি। শ্রম দফতরের কাছে গোন্দলপাড়া জুটমিল ও জেলার অন্যান্য বন্ধ কারখানা অবিলম্বে চালু করার দাবি সহ ৮ দফা দাবি পেশ করেছি। একইসাথে বেআইনি ভাবে বন্ধ কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
তাঁদের দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে গ্র্যাচুইটি সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ও গ্র্যাচুইটি প্রদান না করার জন্য সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের মতো অত্যন্ত জরুরি বিষয়গুলিও। তাঁরা বলেছেন, গ্র্যাচুইটি ইন্সপেক্টর নিয়োগ করে মালিকদের গ্র্যাচুইটি প্রদান নিশ্চিত করতে হবে, অন্যাথায় মামলা করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ না করতে পারার কারণে অনেকসময়ই বহু শ্রমিক প্রাপ্য গ্র্যাচুইটি থেকে বঞ্চিত হন।
স্মারকলিপিতে অন্যান্য দাবির মধ্যে স্থান পেয়েছে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিবন্ধীকরণ এবং তাঁদের প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা প্রদান করার বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ, প্রত্যেকটি জুটমিলে কমপক্ষে ৯০ শতাংশ শ্রমিকের স্থায়ীকরণ এবং বিশেষ করে ইঁটখোলায় কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকপরিবারের শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ব্যাপারে মালিকদের নির্দেশ দানের কথাও।
দাবিসনদে উল্লেখিত হয়েছে, শ্রম আইন অনুযায়ী প্রতিটি কারখানায় শ্রমিকদের নিয়ে যে কমিটি থাকার কথা তা নিশ্চিত করা এবং ১৯৪৮ এর কারখানা আইনে বর্ণিত কারখানার অভ্যন্তরে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সুযোগ সুবিধাগুলিকেও কার্যকর করা সহ একইসাথে কারখানার পাশে শ্রমিকদের বাসস্থানগুলির শোচনীয় অবস্থার উন্নতি সাধনের কথাও। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত র্যাগ পিকার বা আবর্জনা কুড়ানিদের শ্রমিক হিসেবে মর্যাদা প্রদান করার দাবিও উঠেছে।
বিশ্বজিৎবাবু বলেন, এই প্রথম এক অভিনব প্রতিবাদের বার্তা ঘোষিত হল যেখানে বলা হল যে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার শ্রমিক ও কর্মচারীদের উপর যেভাবে অত্যাচার নামিয়ে এনেছেন ও আনছেন তার পরিপ্রেক্ষিতে সমস্ত শ্রেণির মানুষের যৌথ প্রতিবাদের পথ গ্রহণ করা ছাড়া আর অন্য কোনো উপায় নেই। বর্তমান সময়ে উচ্চবিত্ত চাকুরিজীবী থেকে শুরু করে একেবারে দিনমজুর পর্যন্ত সকলেই আক্রান্ত। অতীতে গোন্দলপাড়া জুটমিল বন্ধের সময় এবং অতিমারির সময়ে চন্দননগরের নাগরিক সমাজ সক্রিয়ভাবে প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন এবং সেই শহরেই আজকের এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এমন এক নতুন আন্দোলনের চরিত্রের সূচনা হল যা আজকের সামাজিক প্রেক্ষিতে একান্ত প্রয়োজন। এই অভিনব আন্দোলন যেন বলতে চাইলো – “পথে এবার নামো সাথী, পথেই হবে পথ-চেনা” ।

