সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৩ আগস্ট: সরকারি নিৰ্দেশে বন্ধ ক্ৰাশার ও পাথর খাদান চালুর দাবিতে পাথর শিল্প বাঁচাও কমিটির পক্ষ থেকে আজ শালতোড়ার বিডিওর কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হয়। শালতোড়া তথা বাঁকুড়া জেলার গোটা উত্তর পশ্চিমের বিস্তিৰ্ণ এলাকার একমাত্র রুজি-রুটির সম্বল পাথর শিল্প। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার পরিবার। গত তিন মাস যাবৎ পাথর শিল্পের উপর সরকারি নিষেধাজ্ঞায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলিতে অনটনের মুখে। বাধ্য হয়ে শালতোড়া স্টোন ক্রাশার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও স্টোন কোয়ারি অ্যাসোসিয়েশন যৌথ ভাবে পাথর শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক লরি মালিক ও চালক খালাসিদের নিয়ে গঠন করেছেন শালতোড়া পাথর শিল্প বাঁচাও কমিটি। সোমবার এই কমিটির পক্ষ থেকে অবিলম্বে পাথর খাদান ও ক্রাশার চালু করার দাবিতে বিডিওর কাছে গণ ডেপুটেশন দেওয়া হয়।
স্টোন ক্রাশার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজল মিশ্র বলেন, গোটা এলাকার রুজি-রুটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। লকডাউনের ফলে বহু মানুষ কাজ হারিয়ে ফিরে এসেছেন। তারা এখানে এসে পাথর শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের সাথে যুক্ত হয়ে আয়ের পথ পেয়েছিলেন। হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় সব অচল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এখানে প্রায় ২০০ ক্রাশার, ৩০০ বেশি খাদান এবং ৫০০ বেশি লরি, ডাম্পার ও ট্রাক্টর এই শিল্পের সাথে যুক্ত। তার দাবি, এই শিল্পের সঙ্গে সরাসরি ১৫ হাজার পরিবারে জীবিকার সংস্থান হয়। পাথর খাদান ও ক্রাশার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দক্ষিণবঙ্গের নির্মাণ শিল্পও বন্ধ। ফলে আরও লক্ষাধিক মানুষ রুজি-রুটি হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। নির্বাচনের ঠিক আগে গত ১৫ মার্চ থেকে জেলা প্রশাসন পাথর খাদান ও ক্রাশার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তারপর লকডাউন শুরু হল, এখন সব কিছু ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলেও পাথর খাদান ও ক্রাশার খোলার অনুমতি মিলছে না। এর পিছনে কি কারণ রয়েছে তা আমাদেৱ কাছে অজ্ঞাত।
এ বিষয়ে ক্রাশার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক নাড়ুগোপাল মন্ডল বলেন, ১৯৯৮ সাল থেকে একটা সিস্টেমের মধ্যে চলছিল। জেলা প্রশাসন যে হারে বাৎসরিক রয়ালটি ধার্য করেছিল এতদিন সেই হারেই জমা করছিলাম। এখন কি কারণে নিষেধাজ্ঞা সে বিষয়েও আমরা অন্ধকারে। পাথর খাদান সংগঠনের সম্পাদক লিলু মাজি বলেন, ৬ মাস ধরে পাথর শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা বসে আছে। আমরাও আয় হারিয়েছি। শ্রমিকদের অগ্রিম দিতে গিয়ে আমাদের দেনা করতে হচ্ছে। ওরা তো আমাদের মুখাপেক্ষী হয়েই থাকে। অবিলম্বে পাথর খাদান ও ক্রাশার চালু না হলে জড়িত সকলের জন্য অনাহার অপেক্ষা করছে।
এবিষয়ে শালতোড়ার বিডিও মানস কুমার গিরি বলেন, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব। তিনি জানান, দাবি সম্বলিত স্মারকলিপিটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

