অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ৩১ মার্চ: সারা বাংলা সেভ এডুকেশন কমিটির ডাকে বৃহস্পতিবার সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে দুপুরে রাজভবন অভিযান হয়।
সংগঠনের তরফে এই প্রতিবেদককে জানানো হয়, যে
৬-দফা দাবিতে রাজ্যপালকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়, তার মধ্যে আছে—
১) শিক্ষার প্রাণসত্তা হরণকারী জাতীয় শিক্ষানীতি বাতিল করে ধর্মনিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক সর্বজনীন শিক্ষা চালু করতে হবে।
২) রাজ্য সরকারের পিপিপি মডেলে স্কুল চালুর প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে হবে। শিক্ষার কোন স্তরে বেসরকারিকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণ করা চলবে না।
৩) সমস্ত শিক্ষক পদ অবিলম্বে পূরণ করতে হবে।
৪) অনলাইন শিক্ষার পরিবর্তে শ্রেণি-কক্ষ শিক্ষা সুনিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষায় ব্লেণ্ডেড মোড বাতিল কর।
৫) ইণ্ডিয়ান নলেজ সিস্টেমের নামে শিক্ষার গৈরিকীকরণ ও ইতিহাসের বিকৃতি করা চলবে না।
৬) উচ্চশিক্ষায় ৪ বছরের ডিগ্রি কোর্স ও কেন্দ্রীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা চালু বন্ধ কর। এম ফিল অবলুপ্ত করা চলবে না।
এই সব দাবিতে রাজ্যপালের অফিসে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন, প্রাক্তন উপাচার্য চন্দ্রশেখর চক্রবর্তী, বিশিষ্ট ভূতত্ত্ব বিজ্ঞানী ধ্রুবজ্যোতি মুখোপাধ্যায়, অধ্যক্ষ মৈত্রেয়ী বর্ধন রায়, অধ্যক্ষ শিবশঙ্কর পাল, অধ্যক্ষ বি আর প্রধান, কৃষি বিজ্ঞানী ডঃ মৃদুল দাস, সম্পাদক অধ্যাপক তরুণকান্তি নস্কর সহ বহু শিক্ষাবিদ, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পড়ুয়া ও অভিভাবক।
সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারের সভায় সকল শিক্ষাবিদ এই জনবিরোধী শিক্ষানীতি একতরফাভাবে চালু করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র সমালোচনা করেন এবং এই শিক্ষানীতি সম্পর্কে রাজ্য সরকারের অভিমত পরিষ্কার করে জনসমক্ষে আনার দাবি করেন। সম্পাদক পার্থ চ্যাটার্জি মন্ত্রী থাকার সময় যে বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি হয়েছিল জাতীয় শিক্ষানীতি সম্পর্কে তার অভিমত প্রকাশ করার দাবি জানান।
রানি রাসমণি রোডে মিছিল শেষে বিশ্বজিৎ মিত্রের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল রাজ্যপাল দেখা না করায় তাঁর অফিসে স্মারকলিপি জমা দিয়ে আসেন। এক মাস আগে জানানো সত্ত্বেও রাজ্যপাল সাক্ষাৎ না করায় সভায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

