আমাদের ভারত, শিলিগুড়ি, ১১ আগস্ট: পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ। ফের এক হতে চলেছে বিমল গুরুং ও বিনয় তামাং। তার আভাস অবশ্য আগেই পাওয়া গিয়েছিল। কারণ যেদিন বিনয় তামাং মোর্চা থেকে পদত্যাগ করেন সেদিন তিনি বিমলের ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি তাদের পতাকা ফেরত দিয়ে দেন। এরপর থেকেই জল্পনা কল্পনা চলছিল পাহাড়ে। কিন্তু বিনয় তামাং কিছুই স্পষ্ট করছিলেন না।
এদিকে বিমল গুরুংয়ের সুরেই তিনি ত্রিপাক্ষিক বৈঠককে কটাক্ষ করেছিলেন। তখনই কিছুটা আন্দাজ করা যাচ্ছিল যে বিনয় তামাংয়ের ঘরে ফেরা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। আর বুধবার তা পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে গেলো। এদিন বিকালে পাতাবং এলাকায় বৈঠক করেন বিমল গুরুং ও বিনয় তামাং। ২০১৭ সালের জুন মাসের পর ফের একসাথে হলেন তাঁরা। চার বছর পর একসাথে বৈঠক করে রণকৌশল ঠিক করেন তা বলাই যায়। যদিও এনিয়ে কেউ মুখ খুলতে নারাজ।
তবে বিমল গুরুং ত্রিপাক্ষিক বৈঠক নিয়ে বলেছেন, এটা শুধুমাত্র কেন্দ্রের আইওয়াশ ছাড়া কিছু নয়। আমি নিজেও ২০১৯–এ বহুবার বৈঠক করেছি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে। কিন্তু তারা কথা রাখেনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে বলেছিলেন পাহাড়ের ১১জনজাতিকে তফশিলি তালিকাভুক্ত করবেন। কিন্তু এখনও অবধি তা হয়নি। এই কেন্দ্র সরকার শুধুমাত্র আশ্বাস আর ভাষণ দেয়। কাজের কাজ কিছুই করে না এরা। আমরা বলেছিলাম, পাহাড় সমস্যার একমাত্র সমাধান গোর্খাল্যান্ড। তা এরা করতে পারবে না তাই ত্রিপাক্ষিক বৈঠক নিয়ে আমাদের কোনও আগ্রহ নেই। আমাদের ডাকা হলেও আমরা যাবো না।
প্রসঙ্গত ২০১৭ সালে পৃথক রাজ্য গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে পাহাড়ে সশস্ত্র আন্দোলনের পর গা ঢাকা দিয়েছিলেন বিমল গুরুং। কিন্তু ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে আচমকা পাহাড়ে ফেরেন তিনি। এমনকি বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থনের পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু পাহাড় থেকে সমতল, উত্তরের সব জেলাতেই ভরাডুবি হয় তৃণমূলের। পাহাড়ে ফিরেও খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারেননি বিমল গুরুং। একই করুন দশা দেখা যায় মোর্চা ২–য়েও। নির্বাচনে পাহাড়ে বিজেপির কাছে দুই মোর্চা গোষ্ঠী ধরাশায়ী হওয়ার পর ২০২৪–এর লোকসভা নির্বাচনের আগে পাহাড়ের জমি শক্ত করতে তাহলে কী ফের দুই নেতার গটবন্ধন? এখন অন্তত এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিকমহল। তৃণমূলের সঙ্গে জোট রেখে এগিয়ে গেলেও বিনয় ও বিমলের বৈঠকের পর অনিত থাপাপন্থী মোর্চার ভবিষ্যত নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

