১২ নম্বর ওয়ার্ডে মীনাক্ষী গঙ্গোপাধ্যায়ের শেষ হাসি এখন কেবল সময়ের অপেক্ষায়

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ১৭ ডিসেম্বর: প্রায় ২৫ বছর ধরে কলকাতা পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ড তৃণমূলের দখলে। এবার অনুকূল হাওয়ায় এই জয় শাসক দলের কাছে আরও নিশ্চিত। তা সত্বেও এবার পুরভোটে আরও ‘কাছের লোক, কাজের লোক’-এর খোঁজ করেছিল দল। এদিক থেকে ডাঃ মীনাক্ষী গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম নিয়ে কোনও মতানৈক্য ছিল না নেতৃত্বের।

শ্যামবাজার এবং সংলগ্ন এলাকা নিয়ে এই ওয়ার্ড। ২০১১-র জনগণনায় লোকসংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৪৯৩। মিশ্র জনগোষ্ঠী। মীনাক্ষীর জন্মও এখানে, ১২ নম্বর হালদারবাগানে। পড়াশোনা সিস্টার নিবেদিতা স্কুল, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে। ছেলেবেলা থেকে ডানপন্থী পরিবারে বড় হওয়া। বাবা ছিলেন অজিত পাঁজার অনুগামী।

কর্মসূত্রে মীনাক্ষী নানা সময় বহু রাজনীতিকের সংস্পর্শে এসেছেন। কিন্তু নিজে কখনও রাজনীতি করেননি, করার কথা ভাবেননি। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি। সাধন পান্ডের স্নেহধন্য, ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্ত্রী, আরও কিছু সংগঠনের সামাজিক কাজে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত মীনাক্ষীর মনের আরাম, আত্মার আনন্দ, প্রাণের শান্তি কাজের মধ্যেই। তা হালিশহর, শান্তিপুর, কল্যাণী, কুলটি, কালীঘাটে পথবাসীদের পুনর্বাসন কেন্দ্রেই হোক বা স্বাস্থ্যভবনের করোনা প্রোটোকল টিমের সদস্য হিসাবে। সকাল থেকে সন্ধ্যা জীবনে ছায়ার মত জড়িয়ে গিয়েছে হরেক সামাজিক কাজ।

আর এই কাজের পরিচয়ই মীনাক্ষীর একটা আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে। বলা যেতে পারে লার্জার দ্যান লাইফ। ভোটের টিকিট পাওয়ার ইচ্ছে কোথাও প্রকাশ না করতেই তৃণমূল থেকে প্রস্তাব চলে এল নিশ্চিত আসনে প্রার্থী হওয়ার। বড় ছেলে লা মার্টসের প্রাক্তনী এমবিবিএস-এর চূড়ান্ত বর্ষের পড়ুয়া। ছোট জন ওই স্কুল থেকেই ক্লাশ টেনের পরীক্ষা দিয়েছে। মীনাক্ষীর কথায়, “ছেলেদুটি একটু বড় হয়ে গিয়েছে। তাই হাজারো কাজের মধ্যে আরও কাজের ঝুঁকি নেওয়ার সাহস পেলাম।“

মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রের অধীন এবার মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত এই ওয়ার্ডে বামফ্রন্টের প্রার্থী সিপিআইয়ের পূবালী দেব, বিজেপি-র তনুশ্রী রায়, কংগ্রেসের তনিমা ঘোষ। ভোটের ফলাফলে এক নম্বর স্থানটা নিয়ে প্রায় কোনও সন্দেহ নেই। তবু প্রচারে ঢিলে দিতে চাননি। শেষ হাসি এখন কেবল সময়ের অপেক্ষায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *