অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম, ১১ জুলাই:
টানাদেড় বছর ধরে সরকারি বিদ্যালয় বন্ধ। কিন্তু বন্ধ নেই কচিকাঁচাদের স্বপ্নপূরণ, তাদের পঠন পঠন। এমনই চিত্র দেখা গেল ঝাড়গ্রামের কুলটিকরির জঙ্গল ঘেরা আদিবাসী অধ্যুষিত পাটাশোল গ্রামে।
গতবছর লকডাউন এর কড়াকড়ি কেটে যাওয়ার পরই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিকেলে খেলার ফাঁকে একটু একটু করে পাঠদান শুরু হয়েছিল এখানে। মূলতঃ কুলটিকরি এসসি হাই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক গৌরসাধন দাস চক্রবর্তীর উদ্যোগে তাঁরই কয়েকজন সহকর্মী ও ছাত্রদের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা “আর্থ কেয়ার অ্যান্ড সমাজকল্যাণ সেচ্ছাসেবি সংস্থার” অধীনে সামাজিক বনসৃজন প্রকল্পের পাশাপাশি শুরু হয়েছে অবৈতনিক পাঠশালা।

প্রথমের দিকে বিকেলেই এই পাঠশালা হত, পরবর্তী কালে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য বিষয় মাথায় রেখে সকালেই হয় ” সবুজের পাঠশালা”। গত ৫ ই জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসের দিন বিশিষ্ট সমাজকর্মী ঝর্ণা আচার্য্য উপস্থিত ছিলেন এখানকার একটি অনুষ্ঠানে। সেদিন থেকেই পাঠশালার কচিকাঁচাদের জন্য কিছু সাহায্যের পরিকল্পনা করেন তিনি। পাশে পেয়ে যান মেদিনীপুর ছাত্রসমাজ নামক সমাজসেবা মূলক সংগঠনকে। সেই উদ্যেশ্যে রবিবার এই সংগঠনের সহ সম্পাদক অনিমেষ প্রামানিক সহ ৮ জন সদস্যকে নিয়ে উপস্থিত হন তিনি। সংগঠনের সুব্রত দাস তাঁর ছেলে সুবর্ন’র জন্মদিন উপলক্ষে ৬০ জন ছেলেমেয়ের হাতে খাতা, কলম পেন্সিল, ইরেজার, স্কেল, জ্যামিতি বক্স, রং পেন্সিল, চকলেট, বিস্কুট ও একটি করে ছাতা তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গৌরবাবুর দুই সহকর্মী, সুবীর কুমার মণ্ডল ও সর্বেশ্বর মহাপাত্র, পাঠশালার সহযোগী শিক্ষক সুমন বিকাশ মণ্ডল, সমাজসেবী প্রদীপ কুমার মাইতি। আর্থ কেয়ার এর পাঠশালা প্রকল্পে এখন ৫ জন শিক্ষক শিক্ষিকা পাঠদান করেন। শুরু হয়েছে, অঙ্কন, যোগ ব্যায়াম ও আবৃত্তির ক্লাস।

