আমাদের ভারত, কলকাতা, ২৯ জানুয়ারি: এসএসকেএম হাসপাতাল চত্বরে ‘প্রাইভেট কেবিন বিল্ডিং’-এর সরকারী পরিকল্পনার তীব্র ধিক্কার জানাল মেডিকেল সার্ভিস সেন্টার। এই সঙ্গে সংগঠনের তরফে জনস্বাস্থ্য আন্দোলনকে শক্তিশালী করার আবেদন জানানো হয়েছে।
শনিবার সংগঠনের কলকাতা জেলা কমিটির সম্পাদক ডাঃ অংশুমান মিত্র জানান, “পি.জি হাসপাতাল চত্বরে প্রাইভেট কেবিন বিল্ডিং’-এর সরকারী পরিকল্পনা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় গড়ে ওঠা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে কর্পোরেট মুনাফাখোরদের হাতে তুলে দেওয়ার এক চূড়ান্ত নিদর্শন।
রাজ্যে চিকিৎসার উৎকর্ষ কেন্দ্র বলে প্রচারিত এই হাসপাতাল চৌহদ্দিতে সকল নাগরিকের তিক্ত অভিজ্ঞতা, জীবনদায়ী চিকিৎসার প্রয়োজনেও উপযুক্ত সুপারিশ বা দালাল ছাড়া কেউ ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পেয়ে মৃত্যু মুখেও পতিত হন। এহেন উৎকর্ষ কেন্দ্রে আপামর জনসাধারণের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত না করে, এই যে মূল্য দিতে পারলে দ্রুত চিকিৎসার প্রলোভন মুখ্যমন্ত্রী দেখাচ্ছেন, আমাদের আশঙ্কা তিনি কি গণতন্ত্রকে ত্যাগ করে এটাই দেখাতে চাইছেন যাদের পয়সা বেশি আছে তাদের সময়ের দাম আছে, গরিব মানুষের সময়ের দাম নেই, চিকিৎসারও প্রয়োজন নেই?
চিকিৎসক-নার্স-চিকিৎসাকর্মী নিয়োগ যেখানে অত্যন্ত অপ্রতুল, সেখানে একই লোকবল দিয়ে এই দু’ধরনের পরিষেবা চালানোর পরিকল্পনাকে আমরা তীব্র বিরোধিতা করছি। এই যে বিনে পয়সায় চিকিৎসা দেওয়ার নাম করে তৃণমূল সরকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় দু’ধরনের চিকিৎসা চালু করতে চলেছে, তার পথ বেয়েই কর্পোরেট মুনাফাখোরদের হাতে তুলে দেওয়ার পথ প্রশস্ত করছে তাকে আমরা তীব্র ধিক্কার জানাই।
উন্নত চিকিৎসার গল্প বলে যখন স্বাস্থ্য সাথী কার্ড-এর প্রবর্তন সরকার করতে চলেছিল, তখনই আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছিলাম, যে এই পথে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় গড়ে ওঠা স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কার্যত বেসরকারী স্বাস্থ্য মালিকদের দখল আরো বাড়বে। তার পরে পরে হাসপাতালে সরবরাহকৃত ঔষধ সংখ্যা অৰ্দ্ধেক কমিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ ফার্মা কর্পোরেটের ব্যবসার সুযোগ বাড়ানোর চক্রান্ত। এবার পি.জি হাসপাতালে প্রাইভেট ‘কেবিন বিল্ডিং’-এর পদক্ষেপ কোভিড পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে আরো স্বাস্থ্য সংকটে ঠেলে দেবে।
আমরা সমস্ত জনগনের কাছে আবেদন জানাই, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা রক্ষার আন্দোলনে আপনারা সর্বতো যোগদান করে স্বাস্থ্যে এই কর্পোরেট মালিকের অনুপ্রবেশ বন্ধ করুন।”

