আমাদের ভারত, ১৭ জুন: বিহার, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, তেলেঙ্গানার মতো হরিয়ানাতেও অগ্নিপথ প্রকল্পের বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে হরিয়ানায়। পরিস্থিতি সামলাতে অগ্নিপথ প্রকল্পে নিয়োজিত অগ্নিবীরদের চার বছরের মেয়াদ শেষের পর রাজ্য সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর। কিন্তু তাতেও বিক্ষোভের আঁচ কমেনি। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় গুরগাঁও সহ কয়েকটি এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করতে হয়েছে। গুরগাঁওয়ের পাশাপাশি ফরিদাবাদের বল্লভগড়ে আগামী ২৪ ঘন্টার জন্য সমস্ত ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা।
বল্লভগড়ে বিক্ষোভকারীরা বৃহস্পতিবার সরকারি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ডেপুটি কমিশনারের বাড়িতে পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, হরিয়ানার জাঠ জনগোষ্ঠীর যুবকদের চাকরির বড় ভরসা ভারতীয় সেনা। চাকরির স্থায়িত্বের কারণেই গরিব ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণরা সেনা চাকরিকে বেছে নেন। কিন্তু অগ্নিপথ প্রকল্পে নিয়োজিত চুক্তি ভিত্তিক অগ্নিবীরদের চাকরি পাওয়ার চার বছরের মধ্যেই অবসর নিতে হবে। এককালীন কিছু টাকা পেলেও পেনশনের ব্যবস্থা থাকবে না। ফলে তাদের নতুন চাকরির সন্ধান করতে হবে। অনিশ্চিত হবে ভবিষ্যৎ।
উত্তর ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে হরিয়ানার যুবকদের সেনায় যোগদানের সংখ্যা বরাবর বেশি। ফলে সেখানে এই আন্দোলনের সুর আরো চড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সময়েও যোদ্ধা জাতি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল জাঠরা। ১৭৯৫ সালে গঠিত জাঠ রেজিমেন্টের অন্তর্গত ব্যাটেলিয়ান গুলোতে উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানার বহু যুবকরা চাকরি করছেন।

