খড়্গপুরে ভোটে ব্যাপক গন্ডগোল

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ২৭ ফেব্রুয়ারি: পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুর পৌরসভার ৯, ১০, ১৮, ২২ ও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে গন্ডগোলের ঘটনা ঘটেছে। ৯ নং ওয়ার্ডের ৬৬ নং বুথে ভোটদান কেন্দ্রের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ভোট গ্রহণ কেন্দ্রের মধ্যেই বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে জলের ড্রাম উল্টে দিয়ে চেয়ার টেবিল ও ইভিএম মেশিন ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। 

এই বুথের প্রিসাইডিং অফিসার অভিজিত ঘড়া জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের মধ্যে বোমাবাজি করা হয়েছে। তাঁকে বন্দুক দেখানো হয় এবং মারধর করা হয়। তিনি বলেন, ইভিএম ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। ভোট কেন্দ্র থেকে বোমার অংশ পাওয়া গেছে। এই ওয়ার্ডের ৬৮ নং বুথের তৃতীয় পোলিং আধিকারিকের অভিযোগ, কালো কাপড়ে মুখ ঢেকে বন্দুক নিয়ে ঢুকে বুথে হামলা চালানো হয়েছে। এই দুটি বুথেই বেশ কিছুক্ষণ ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। পুলিশের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী এ পূজা অভিযোগ করেন, বিজেপি প্রার্থী শ্রী রাও ১৩৪, ১৩৫, ১৩৬ নম্বর বুথে ঢুকে  ভোটারদের বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে গন্ডগোল করার চেষ্টা করেছেন।

১০ নং ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থী মৌসুমী দাসকে মারধর করার অভিযোগ উঠে তৃণমূলের বেবি কোলের বিরুদ্ধে। ভোটগ্রহণ কেন্দ্র খিদিরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে শুরু হয় দু’পক্ষের বচসা। বিজেপি প্রার্থী মৌসুমী দাসকে মারধর করে শাড়ি ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ করেন সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া বেবি কোলের বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থলে আসে খড়্গপুরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী, পুলিশ দু’ পক্ষকে হঠিয়ে দেয়।মিছিল করে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদ জানায় বিজেপি প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকরা।

৩৩ নং ওয়ার্ডের তালবাগিচা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথে, বুথ জ্যাম করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। র‌্যাফ সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী মাইকিং করে জমায়েত সরিয়ে দেয়। সেই সময় বিজেপি প্রার্থী হিরণ চট্টোপাধ্যায় ও তৃণমূল প্রার্থী জহর পাল দুই জনই এই বুথের বাইরে উপস্থিত ছিলেন। খড়্গপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে কংগ্রেস ও তৃণমূল কর্মীদের সংঘর্ষে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। তৃণমূল কর্মীদের হাতে কংগ্রেস প্রার্থী প্রহৃত হয়েছেন বলে অভিযোগ।

মেদিনীপুরের সংসদ দিলিপ ঘোষ এদিন খড়্গপুর পৌঁছানোর পর তার বাংলোতে একাধিক পুলিশ আধিকারিক এসে জানায় কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বরা পৌরসভা নির্বাচনে এলাকায় থাকতে পারবেন না। কিন্তু দিলীপ ঘোষ স্পষ্টই জানিয়ে দেন, চাকরিজীবী অনেকেই আছেন যাঁরা খড়্গপুরে থাকেন। যারা এখানকার ভোটারই না। রাজনৈতিক কারণে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে প্রশাসন। তবে এ দিন তিনি খড়্গপুরেই ছিলেন।

খড়গপুর বাদ দিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের অন্য ছয়টি পৌরসভাতে ভোটগ্রহণ মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। ঝাড়গ্রাম পৌরসভাতেও এদিন শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *