স্বরূপ দত্ত, উত্তর দিনাজপুর, ২৭ এপ্রিল: ছ’ মাস আগে বাড়িতে কিছু না জানিয়ে বিয়ে করেছিল ছেলে, আজ নববধূ শ্বশুরবাড়িতে ঢুকতে গেলে অস্বীকার করে ছেলের পরিবার। এই ঘটনা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বেধে যায় ব্যাপক সংঘর্ষ। নববধূর পরিবার ও গ্রামের বাদিন্দারা ব্যাপক ভাঙ্গচুর করল ছেলের বাড়িঘর দোকানপাট ও মোটরবাইক। ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে রায়গঞ্জ থানার বাজিতপুর গ্রামে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ছুটে আসে রায়গঞ্জ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও।
পাত্রপক্ষের দাবি ছেলে বাড়িতে কিছু না জানিয়েই বিয়ে করেছে ফলে তাঁরা এই বিয়ে মানবেন না এবং পুত্রবধূকেও ঘরে তুলবেন না। অপরদিকে অনড় নববধূর দাবি বিয়ে যখন করেছে তখন সে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ঢুকবেই। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাজিতপুর গ্রামে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জ থানার বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা টিঙ্কু দাস তারই প্রতিবেশী চাঁদমণি দাসকে মাস ছয়েক আগে বাড়ির অমতে এক মন্দিরে বিয়ে করে। বিয়ে করে টিঙ্কু আর চাঁদমনি রায়গঞ্জ শহরের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকত। ছেলে রাড়িয়া গ্রামের একটি বেসরকারি বিএড কলেজের অস্থায়ী কর্মচারী। কলেজে কাজে আসার নাম করে নিজের বাড়িতে এসে খাওয়া দাওয়া করত। আর রাতে ভাড়াবাড়িতে নতুন বৌ চাঁদমনির কাছে থাকত। অভিযোগ, টিঙ্কু নববধূ চাঁদমনির ন্যূনতম খাওয়াদাওয়ার ব্যাবস্থাও করত না। কয়েকদিন হল ভড়াবাড়িতেও যাচ্ছিল না। সোমবার চাঁদমনি স্বামী টিঙ্কুর খোঁজে বাজিতপুরে শ্বশুরবাড়িতে গেলে সেখানেও তার হদিশ পায়নি। এমনকি চাঁদমনিকে তার শ্বশুরবাড়িতে ঢুকতেও দেয়নি।

ছবি: গোপনে বিয়ের ছবি।
এরপরই আজ চাঁদমনি তার বাপের বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীদের নিয়ে তাঁর স্বামীর বাড়ি অর্থাৎ শ্বশুরবাড়িতে ঢুকতে গেলে তাকে বাধা দেয়। এনিয়ে প্রথমে দুপক্ষের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি থেকে পরে সংঘর্ষ বেধে যায়। চাঁদমনির শ্বশুরবাড়ির লোকজন এই বিয়ে কোনমতেই মানবে না বলে বাড়ির গেট বন্ধ করে দেয়। আর তাতেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন চাঁদমনির পরিবার ও প্রতিবেশীরা। তারা টিঙ্কুর বাড়ি ভাঙ্গচুর করে। পাত্র টিঙ্কুর মা কনিকা দাস স্পষ্ট ভাষাতেই জানিয়ে দেন তাদের মেরে ফেললেও তারা চাঁদমনিকে পুত্রবধূ হিসেবে ঘরে তুলবেন না।

ছবি: শ্বশুরবাড়ির ঘরের সামনে বসে চাঁদমণি।
এদিকে নববধূ চাঁদমনিও হত্যে দিয়ে পড়ে আছেন শ্বশুরবাড়িতে ঢোকার জন্য। নববধূ চাঁদমনি জানিয়েছেন, ছয়মাস আগে আমাকে হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী মন্দিরে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছে টিঙ্কু। আমি আমার শ্বশুরবাড়িতে থাকবই। এই ঘটনা নিয়ে পাত্রপক্ষ ও পাত্রীপক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বেধে যায়। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে রায়গঞ্জ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে নামানো হয় ভোটের কাজে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও। তবে অভিযুক্ত টিঙ্কুর খোঁজ এখনও পর্যন্ত মেলেনি।


