আমাদের ভারত, ১৯ মার্চ:ভোরের বেলা মসজিদের লাউডস্পিকারে আজানের শব্দে ঘুম নষ্ট হয় বলে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সঙ্গীতা শ্রীবাস্তব অভিযোগ করে ছিলেন। সেই অভিযোগের জেরে শেষ পর্যন্ত মসজিদের পরিচালন কমিটির দুটি লাউডস্পিকারের একটির মুখ ঘোরানো হলো এবং ভলিউমও কমানো হলো।
যদিও উপাচার্য জেলা প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়ে আজান নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছিলেন। প্রয়াগরাজ পুলিশের আইজি রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত লাউডস্পিকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। এরপল লাল মসজিদের কেয়ারটেকার কালীম উর রহমান জানান, পুলিশ তাদের সমস্যার ব্যাপারে জানানোর পরেই মসজিদ কমিটি সঙ্গে সঙ্গে সমাধানে উদ্যোগী হয়। তাঁর দাবি সাউন্ড সিস্টেমের ভলিউম এমনিতেই এলাহাবাদ হাইকোর্ট নির্ধারিত ডেসিবেলের কম ছিল। তা আরও অর্ধেক কমানো হয়েছে। একটি লাউডস্পিকারের মুখ উপাচার্যের বাড়ির উলটো দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। উপাচার্য মসজিদ পরিচালনা কমিটির সঙ্গে নিজে কথা বলে মসজিদের কাছের বাসিন্দাদের যাতে কোনও রকম অসুবিধা না হয় তা নিশ্চিত করতে বলেছেন।
এর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া চিঠিতে শব্দ দূষণের অভিযোগ তুলে উপাচার্য জেলাশাসককে জানান, মসজিদ থেকে আসা আজান ধ্বনিতে প্রতিদিন ভোর সাড়ে পাঁচটায় তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। জেলা প্রশাসনের কর্তাদের পাঠানো হয় চিঠির প্রতিলিপি। উপাচার্য জানান, একবার ঘুম ভেঙে গেলে অনেক চেষ্টা করেও ঘুম আসে না। ফলে তাঁর সারাদিন মাথা যন্ত্রণা থাকে। কাজ নষ্ট হয়। একই সঙ্গে তিনি আজান নিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টের ২০২০-র মে মাসের রায়ের একটি কপিও চিঠিতে জুড়ে দেন। যাতে বলা হয়েছিল আজান হতে পারে ইসলামের আবশ্যিক অংশ। কিন্তু তা সজোরে শব্দ করে শোনানো ধর্মের অঙ্গ, এটা বলা যায় না। একই সাথে সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে অনুযায়ী মৌলিক অধিকার বাঁচানো জনজীবনের শৃঙ্খলা নৈতিকতা স্বাস্থ্য ও অন্যান্য বিষয়গুলোও জড়িত। কোনও অবস্থাতেই রাত দশটা থেকে পরদিন সকাল ছয়টা পর্যন্ত শব্দ বর্ধক যন্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যায় না।
এরপরই উপাচার্যের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের নির্দেশ দেন প্রয়াগরাজের সিনিয়ার পুলিশ সুপার। যদিও এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সময়ের ছাত্র সংসদের প্রাক্তন সহ-সভাপতি অখিলেশ যাদব বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বোধ ভারতের মূল কথা। অথচ দুঃখের কথা হলো,আজকাল ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলা ফ্যাশন। তিনি উপাচার্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন।

