প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর, ১৯ জুলাই: সোমবার সাত সকালে মারুতি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চায়ের দোকানে উঠে যাওয়ায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটলো জগদ্দলে। এই দুর্ঘটনায় প্রাণ গেলো ৫২ বছর বয়সী কুন্তী দেবীর, আহত হয়েছেন ওই চায়ের দোকানদার। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে জগদ্দল থানার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সার্কাস মোড়ে।
সোমবার সকালে একটি মারুতি গাড়ি নিয়ে একজন মহিলা গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। সেই সময় জগদ্দলের ফেরিঘাট থেকে ঘোষপাড়া রোডে উঠে টার্ন নিতে গিয়েই রাস্তার ধারে একটি চায়ের দোকানে ধাক্কা মারে গাড়িটি। সেই সময় প্রতঃভ্রমণ সেরে অনেকেই চা খেতে ওই চায়ের দোকানে এসে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই সময় মারুতি গাড়িটি চা এর দোকানে ধাক্কা মারে। সেই ধাক্কায় দোকানে চা খেতে আসা এক মহিলা রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। তাঁর বাড়ি জগদ্দলের মেঘনা কুলি লাইনে। ওই গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর জখম হয়েছেন চায়ের দোকানদার ৩৩ বছরের সুনীল সাউ।
এরপর স্থানীয় বাসিন্দা ও আশপাশে দোকানদাররা ছুটে এসে দুর্ঘটনায় আহত ওই মহিলা ও চায়ের দোকানদার কে উদ্ধার করে ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা কুন্তী দেবীকে মৃত ঘোষণা করেন। আর আহত সুনীল সাউকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে।

এই দুর্ঘটনায় এলাকার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে গাড়িটিকে আটকে রাখে ও বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় জগদ্দল থানার পুলিশ। পুলিশ এসে গাড়ি-সহ প্রশিক্ষন নেওয়া ওই মহিলা চালককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এই ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে পড়া স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “এখানে এত গাড়ি বেড়ে গেছে যে ট্রাফিকের ব্যবস্থা করা উচিত।”
এই দুর্ঘটনায় মৃত মহিলার ছেলে অমর সাউ বলেন, “আমি আমার মায়ের মৃত্যুর বিচার চাই। আমার মা সকালে অন্যান্য দিনের মতই চা নিতে এসেছিলেন আর তখন মারুতি গাড়ি এসে ধাক্কা দেয়। আর তাতেই আমার মা’র মৃত্যু হয়েছে।”এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

