কলকাতার বাংলাদেশ দূতাবাসে শহিদ শেখ রাসেল-এর ৫৭তম জন্মবার্ষিকী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আমাদের ভারত, ১৮ অক্টোবর: বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন কলকাতায় সোমবার উদযাপিত হল বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শহিদ শেখ রাসেল-এর ৫৭তম জন্মবার্ষিকী।

বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর কনিষ্ঠ পুত্র শহিদ শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আয়োজন হয় কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন এর বাংলাদেশ গ্যালারিতে। শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে অনাথ ও দুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয় খাবার।

আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সকল কর্মকর্তা শহিদ শেখ রাসেল এর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর শহিদ শেখ রাসেলের জীবনের উপর এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন বঙ্গবন্ধু গবেষক সৌগত চট্টোপাধ্যায়, শেখ রাসেলের বাল্যবন্ধু ও প্রতিবেশী মিজ নাতাশা আহমাদ এবং প্রথম সচিব (প্রেস) রঞ্জন সেন।

এ ছাড়া কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের কাউন্সেলর (শিক্ষা ও ক্রীড়া) রিয়াজুল ইসলাম এবং প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) মোহাম্মদ শামসুল আরিফ যথাক্রমে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান। সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন প্রথম সচিব (রাজনৈতিক-১) ও দূতালয় প্রধান মিজ শামীমা ইয়াসমীন স্মৃতি।

আলোচনা সভায় মিশনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ কলকাতার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান বলেন, রাসেল ছোটজীবনে যে চমৎকার ও সাবলীল ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিয়েছেন তা আগামী প্রজন্মের শিশুদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। সৌগত চট্টোপাধ্যায় বলেন, রবীন্দ্রনাথও ১১ বছর বয়সে হারিয়েছিলেন তার ছোট ছেলে শমীন্দ্রনাথকে। বিশ্ব শান্তির অগ্রদূত বঙ্গবন্ধু নোবেল বিজয়ী দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের নামে রেখেছিলেন তার কনিষ্ঠ সন্তানের নাম।

সভায় শেখ রাসেলের বাল্যবন্ধু ও প্রতিবেশী নাতাশা আহমাদ বলেন, রাসেল সবাইকে নিয়ে খেলতে ভালোবাসতো, যদিও তার জীবন অন্যদের মতো ছিল না। তিনি আরো বলেন, কবুতর ছিল শিশু রাসেলের খুব প্রিয়। সেজন্য কবুতরের মাংস তিনি খেতেন না।

কবিতা আর গানে শহিদ শেখ রাসেলের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানায় শিশু-কিশোররা। গান আর কবিতার যুগলবন্দী করেন চিরন্তন ব্যানার্জী ও শুভদীপ চক্রবর্তী। মাস্ক পরিধান করে এবং যথাযথ সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *