স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ১৫ এপ্রিল: বাংলাদেশে প্রায় সব জায়গায় ১লা বৈশাখের দিন মঙ্গল শোভাযাত্রা পালন করা হলেও, এপার বাংলায় তার ইতিহাস খুব পুরনো নয়। বাঙালির আদি অকৃত্রিম অখণ্ডতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সংস্কৃতি ধরে রাখতে ২০১৬ সালে ইউনেস্কো একে হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এই সালেই যাদবপুরে শুরু হয় এই সংস্কৃতি আন্দোলন। এই আন্দোলনের ঢেউ এসে লেগেছে উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জে শহরেও।

শহরের প্রায় সব সাংস্কৃতিক দল একসাথে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চ নামে নতুন বছরের প্রথম দিনে আয়োজন করেছিল এই শোভাযাত্রার। প্রায় একমাস ধরে কর্মশালায় প্রস্তুত করা হয়েছে নানা রঙের মুখোশ, মাছ, ছাতা সহ নানা রকম হাতের কাজ। বানানো হয়েছিল লম্বা মাছ, ট্যাপা পুতুল, নৌকা। শনিবার বিকেলে রায়গঞ্জের বিবেকানন্দ মোড় থেকে শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। শোভাযাত্রার একেবারে সামনে ছিলেন মহিলা ও শিশুরা। তারপর ছিল বাঙালির প্রায় ভুলতে বসা লোকআঙ্গিক বাউল, হালুয়া-হালুয়ানি, খন, কীর্তন, পালকি সহ বহু মানুষ। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দল রাস্তাতেই তাদের নৃত্য ও সঙ্গীত পরিবেশন করতে করতে শহর প্রদক্ষিণ করে। ঢাকের তালের সাথে গিটার বাজিয়ে গানের সাথে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের নাচ ছিল চোখে পড়ার মতো।

রাজপথ দিয়ে প্রায় গোটা শহর প্রদক্ষিণ করার পর শোভাযাত্রা শেষ হয় গীতাঞ্জলি সিনেমার সামনে। সেখানে উপস্থিত প্রত্যেকের জন্যই ছিল মিষ্টি মুখের ব্যবস্থা। রায়গঞ্জের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা পা মেলান এই শোভাযাত্রায়।


