সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৯ এপ্রিল: এ যেন ঠগীর গল্প, গল্পে পড়েছি, মেয়েকে প্রভাবশালী পুরুষের সঙ্গে বিয়ে দিত মা। বিয়ের পর দিনই সমস্ত সোনা গয়না ও টাকা লুট করে পালিয়ে যেত মা ও মেয়ে। বাস্তবেও সেই ঠগী দেখা গেল উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানার বাকশার দেহলদহ গ্রামে। সোনার গয়না ও টাকা হাতাতে বিয়ে করল নদীর এক যুবতী। গল্পের ঠগী প্রত্যেকবার পালাতে পারলেও, এই ঠগী শেষ পর্যন্ত পুলিশের জ্বালে ধরা পড়ল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, গত বৃহস্পতিবার বাগদা থানার বাকশার দেহলদহ গ্রামের বসিন্দা সঞ্জীপ পালের সঙ্গে বিয়ে হয় নদীয়ার রাখি বিশ্বাস নামে এক যুবতীর। বিয়ের এক সপ্তাহের মধ্যে রাখি স্বামীর নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে শনিবার রাতে সোনার গয়না ও প্রচুর টাকা নিয়ে চম্পট দিতে যায়। সেই সময় তাঁর শাশুড়ি হাতে নাতে ধরে ফেলে। স্বামী সঞ্জীব তার ফোনের কথোপকথন শোনেন। সঞ্জীববাবুর অভিযোগ, বিয়ের পর দিন থেকেই আমি লক্ষ্য করছিলাম, ফোন করে কার সঙ্গে কথা বলছে। ঘরে ঢুকলেই ফোন বন্ধ করে দিত। দিন দুই আগে তাঁর ফোন হাতে পড়তেই দেখি বিভিন্ন ছেলেদের কথোপকথন, এমনকি সে যে টাকা ও গয়না নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত করছে তাও রেকড করা আছে।

সঞ্জীত পাল নববধূর বিরুদ্ধে বাগদা থানায় অভিযোগ করেন, পুলিশ ওই মহিলাকে গ্রেফতার করেছে। তদন্ত করে পুলিশ জানতে পারে এর আগেও তাঁর চারটে বিয়ে ছিল। ভিন রাজ্যেও বিয়ে হয়েছিল একবার। শুক্রবার সকালে পুলিশ বনগাঁ মহকুমা আদালতে তুললে বিচারক সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। অভিযুক্ত ঘটকের সন্ধান শুরু করেছে পুলিশ।

