আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২১ মার্চ: পারিবারিক বিবাদের জেরে গায়ে আগুন লাগিয়ে কুয়োয় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করলেন এক মার্বেল ব্যবসায়ী। ঘটনার জেরে ব্যপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল পানিহাটিতে।
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিবাদের জেরে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে কুয়োতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করল পানিহাটি শ্যামাপল্লী এলাকার বছর তিরিশের যুবক গৌতম শী নামে মার্বেল ব্যবসায়ী। তিনি মার্বেলের কাজও করতেন। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে নিত্য দিন অশান্তি লেগেই থাকতো।
সূত্রের খবর অনুযায়ী রবিবার দিনও স্ত্রীর সাথে গন্ডগোল বেধে যায়।আত্মঘাতী গৌতম শী তার স্ত্রীকে সন্দেহ করতো আর তার জন্য দু’জনের মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকত। রবিবার অশান্তি চরমে উঠলে গৌতমের স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। এর পর নিজের ঘরে প্রথমে গায়ে আগুন দেয় ও পরে কুয়োয় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে।
এই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে দমকলের ইঞ্জিন ও খড়দহ থানার পুলিশ। দমকলের কর্মীরা কুয়ো থেকে মৃত দেহটি উদ্ধার করে এরপর মৃত দেহ নিয়ে যাওয়া হয় খড়দহ থানায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যথেষ্ট চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
প্রতক্ষ্যদর্শীদের বক্তব্য, স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো, এর জন্য স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে গেছিল বাপের বাড়ি। আর তারপর হঠাৎ করেই রবিবার রাতে গৌতম নিজের ঘরে দরজা দিয়ে গায়ে আগুন দেয়। আর তারপর নিজেই দরজা খুলে জ্বলন্ত অবস্থায় চিৎকার করতে করতে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বাড়ির কুয়োয় ঝাঁপ দেয়।” গৌতমকে জ্বলন্ত অবস্থায় দেখে গৌতমের বাড়ির অন্যান্যরা তাকে জল দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও কোনো লাভ
হয়নি।
অপর দিকে গৌতমের স্ত্রী সুনিতা দেবীর বক্তব্য, তার স্বামী তাকে অকারণে সন্দেহ করত। তাকে কারোর সাথে কথা বলতে দিত না। এমনকি বাড়ির অন্যান্যদের সাথেও মিশতে দিত না। এদিনও বাড়ির এক কাকিমার সাথে দোতলায় গিয়ে কথা বলতে দেখে ফেলে গৌতম আর তারপর থেকে অশান্তি ও মারধর শুরু করে। গৌতম আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। আর তাই সুনিতা দেবী গৌতমকে ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে যায়। আর তারপরেই এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
তবে পুলিশ এই পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

