তাপস মণ্ডল, হুগলি, ৯ ডিসেম্বর: লকডাইনের জেরে স্কুলে বেশ কিছু ছাত্রছাত্রীরা না আসায় অনেকটা জলছাড়া মাছের মত অবস্থা শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের। অন্তত এমনটাই মনে করছেন চুঁচুড়ার কাঁপাসডাঙ্গা সতীনসেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পরই রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের নিয়ে শুরু হয়েছে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পঠন পাঠন। ছাত্র ছাত্রীদের মুল্যায়ণ করতে গিয়ে শিক্ষকরা লক্ষ্য করেছেন, করোনা কালে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে স্কুলছূটের প্রবণতা বেড়েছে। তাতেই উদ্বিগ্ন স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা। এই ঘটনার কারন খুঁজতে প্রধান শিক্ষক তাঁর সহ শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়েই ছুটেছেন স্কুল ছূট ছাত্রছাত্রীদের বাড়িতে। চলতি বছর এই স্কুলে মাধ্যমিক পরীক্ষ্যার্থীর সংখ্যা ৬০জন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ড্রপ আউট।
বৃহস্পতিবার এভাবেই নিজেদের অভিঞ্জতার কথা তুলে ধরেন চুঁচুড়ার কাঁপাডাঙা সতীন সেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরুণ কান্তি কুমার। তবে স্কুলছূটদের স্কুলে ফেরাতে এ দিনও হুগলি চুঁচুড়ার একাধিক ছাত্র ছাত্রীদের বাড়িতে ছুটে গিয়েছেন তারা। সঙ্গে নিয়েছিলেন ছাত্র ছাত্রীদের স্কুলের পোশাক, ব্যাগ, খাতা, চাল ও বিদ্যালয়ের ফিস বুক। এই ঘটনায় আলোড়ণ পড়ে গিয়েছে শিক্ষা মহলে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের এখনো বিদ্যালয়ে এসে পড়াশুনা করার ছাড়পত্র দেয়নি সরকার। কিন্তু অনলাইনে টাস্ক চলছে। সেখানে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে স্কুলে প্রায় ১১ জন ছাত্র ছাত্রী স্কুল ছুট। ৬০ জন মাধ্যমিক পড়ুয়ায়দের মধ্যে ৫ জন অনিয়মিত। ছাত্র ছাত্রীদের গড়হাজিরার বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে চক্ষুচড়ক গাছ শিক্ষকদের।
হুগলি স্টেশন বাজারে ছাত্র পিঙ্কু দাস ( নাম পরিবর্তিত ) এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। সেই মতো রেজিষ্ট্রেশনও হয়ে গিয়েছে। চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে মাধ্যমিকের টেষ্ট পরীক্ষা। কিন্তু বেশ কিছু ছাত্র গড়হাজির। শিক্ষকরা ছাত্রের বাড়ি যেতেই পরিবার জানায় আর্থিক অবস্থার কারণে ছাত্র মুদি দোকানে কাজ করছে। পরিবারের লোকজনদের আশ্বস্থ করেন শিক্ষকেরা। বিদ্যালয়ে ছাত্রের ফি জমা করে দেন শিক্ষকরা। এরপর বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করে পরীক্ষা দেওয়ার কথা জানিয়েছে ছাত্র। কন্যাশ্রীর সমীক্ষা করতে গিয়ে শিক্ষকেরা দেখেন প্রায় ৯ জন ছাত্রী অনিয়মিত। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন কয়েক জনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। শুধু মাত্র আর্থিক কারণে মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষক অভিজিৎ দত্ত, সঞ্জয় দে, গোবিন্দ চক্রবর্তীরা বলেন, আমরা চাই সব ছাত্র ছাত্রী বিদ্যালয়ে আসুক। প্রধান শিক্ষক তরুণ কান্তি কুমার বলেন, কুড়ি মাসে করোনা সব শেষ করে দিয়েছে। ছাত্র ছাত্রীরা পড়াশুনা ভুলতে বসেছে। আমি চাই সব ছাত্র ছাত্রীরাই স্কুলমুখী হোক।

