আমাদের ভারত, ২৪ ফেব্রুয়ারি: বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের এস আই আর প্রক্রিয়া নিয়ে আরো একধাপ পারদ চড়ল রাজ্য রাজনীতিতে। প্রাক্তন মুখ্য সচিব মনোজ পন্থকে ঘিরে এই রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের বৈঠকে তার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন তিনি।
সুকান্তবাবুর অভিযোগ, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে তিনি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
যদিও নবান্নর তরফে পাল্টা জবাব দিয়ে জানানো হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির অনুমোদন নিয়েই মনোজ পন্থ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিব হিসেবে দায়িত্বে আছেন এবং সেই পদমর্যাদার ভিত্তিতেই বৈঠকে যোগ দেন।
সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য, হাইকোর্টের বৈঠকে কারা উপস্থিত থাকতে পারবেন তা নিয়ে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও মনোজ পন্থ কোন ক্ষমতা বলে বৈঠকে যোগ দিলেন তা তিনি জানতে চান। তাঁর দাবি, বর্তমানে পন্থ মুখ্য সচিব পদে নেই, ফলে ওই বৈঠকে তার উপস্থিতি বেআইনি। শীর্ষ আদালতের কাছে বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
এস আই আর সংক্রান্ত বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগারওয়াল সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। সেই প্রেক্ষিতেই পন্থের উপস্থিতিকে বৈধ বলে দাবি করা হয়েছে নবান্নর তরফে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত এস আই আর প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের কাজ দ্রুত শেষ করতে ওড়িশা, ঝাড়খন্ড ও বিহার থেকে বিচারক বা বিচারাধিকারিক আনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ১০ মার্চ শুনানির দিন নির্ধারিত থাকলেও প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি শুনানি করে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ তথ্যে অসঙ্গতি ও ৩২ লক্ষ আনম্যাপড ভোটারের নাম মিলিয়ে বড়সড় জট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ অভিযোগ বিচারপতি কমিটির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে।
এস আই আর ঘিরে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এখন নজর আদালতের নির্দেশ মেনে কত দ্রুত এই বিপুল অভিযোগের নিষ্পত্তি হয় এবং বিতর্কে জড়ানো প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলির কী পরিণতি হয়।

