লকডাউনে দৈনিক এক’শ ভিক্ষুককে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন মানকর কলেজের অধ্যাপক

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৫ জুন: করোনার দ্বিতীয় ঢেউর দাপট। সংক্রামণের হার কিছুটা কমলেও লকডাউন অব্যাহত। আর তার জেরে সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে ভিক্ষুক থেকে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও  দিনমজুর পরিবার। প্রভাব পড়েছে তাদের আর্থ সমাজে। লকডাউনে বাজার বন্ধে বেশী বিপাকে পড়েছে রাস্তায় অসহায় গৃহহীন ভিক্ষুকরা। এরকমই অসহায় মানুষদের মুখে নিয়মিত খাবার তুলে দিচ্ছেন মানকর কলেজের এক অধ্যাপক। গত একমাস ধরে নিজের বাড়ি বর্ধমান শহরের অলি গলিতে থাকা অসহায় মানুষদের খাবার তুলে দিচ্ছেন তিনি। 

  সব্যসাচী রায়। গত ১২ বছর ধরে মানকর কলেজে অধ্যাপনা করছেন। বাড়ি বর্ধমানের আলমগঞ্জে। অধ্যাপনার পাশাপাশি সারাবছরই বিভিন্ন সময়ে সেবামুলক কাজ চালিয়ে যান। কখনও নারী দিবসে অসহায় মহিলাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। কখনও দুঃস্থ পড়ুয়াদের পড়াশোনার ব্যাবস্থা করা। প্রসঙ্গত, গত একবছর ধরে চীনের উহানের উজাড় করা করোনা ভাইরাস গোটা বিশ্বে থাবা বসিয়েছে। সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন জারি হয়েছে। আর তার ফলে চরম অসহায়তায় দিন কাটছে রাস্তার পাশের ভিখারী থেকে দিনমজুর খেটে খাওয়া পরিবার। এরকমই বর্ধমান শহরেরব ৩৫ টি ওয়ার্ডের কমপক্ষে ১০০ জন অসহায় মানুষের খাবারের দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন সব্যসাচীবাবু। গত একমাস ধরে নিয়ম করে তাদের কাছে রান্না করা খাবার, কখনও দুধ পাউরুটি, কখন ডিম কলা পাউরুটি পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি।

গত বছর লকডাউনের শুরু থেকে তার বাড়ির আশপাশে কাজ হারানো শ্রমিকদের প্রতিদিনের খাদ্য সামগ্রী তুলে দিয়েছিলেন। তবে এবারে রান্না করা খাবার সরাসরি পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। সব্যসাচীবাবু জানান, “এই দুর্দিনে ওইসব পরিবারের পাশে থাকা দরকার। তাই গত বছর লকডাউনে ১২ টি অসহায় পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। বাড়ি থেকে প্রতিদিন তাদের হাতে নিয়ম করে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, ডিম থেকে শুরু করে রান্নার খাদ্যসসমগ্রী তুলে দিয়েছি। তবে এবছর প্রায় ১০০ জনকে রান্না করা খাবার পৌঁছে দিচ্ছি। ভাত, ডাল সব্জির পাশাপাশি ডিম অবশ্যই থাকছে। কখনও দুধ, রুটি, কলা দেওয়া হয়।” তিনি আরও বলেন, “পথ ভিক্ষুক থেকে অসহায় দিনমজুর করা পরিবারগুলো চরম সঙ্কটে রয়েছে। তাই এই সিদ্ধান্ত। দিনমজুর ওইসব পরিবারে আর্থ সমাজেও টান পড়েছে। আলু সেদ্ধ ভাতের সঙ্গে প্রোটিন দরকার। তাই দুধ, ডিম রেখেছি। এছাড়াও কোনও এলাকা থেকে খাবারের জন্য ফোন করলেই তার প্রয়োজন মত খাবার পৌঁছানো হচ্ছে। এই সেবা কাজ চলবে।” দুর্দিনে অসহায় পরিবারের পাশে থাকার জন্য সব্যসাচীবাবুর সেবাকাজকে কুর্নিশ জানিয়েছে তার সহকর্মী ও শুভাকাঙ্খীরা।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *