স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২৩ আগস্ট: বাবা ললিত মন্ডল মারা গিয়েছেন ১২ বছর আগে। মা শুক্লা পাইন মন্ডল উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আয়া মাসির কাজ করেন। এক চিলতে টিনের ঘরে সর্বত্র অভাবের তীব্র ছাপ। কিন্তু সেই অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে ঘরে থেকেই সাফল্যের প্রথম ধাপ পেরলো উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জের উকিল পাড়ার বাসিন্দা মানব মন্ডল। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পরেই মানব সুযোগ পেয়েছে ভারত সরকার নিয়ন্ত্রিত দেশের সবচেয়ে সেরা পরমাণু গবেষণা সংস্থা ডিপার্টমেন্ট অফ এটমিক এনার্জিতে পড়বার। আগামীদিনে মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করতে চায় সে।
উল্লেখ্য, ইচ্ছাশক্তি আর কঠিন অধ্যাবসায় যে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি সে কথা ছোটোবেলা থেকেই আত্মস্থ করে নিয়েছিল মানব। বাবা মারা গিয়েছে প্রায় ১২ বছর আগে। দুই ছেলেকে নিয়ে শুরু হয় মা শুক্লা মন্ডলের অসম জীবন যুদ্ধ। সংসার চালাতে আয়ামাসির কাজ শুরু করেন। অর্থের অভাবে একটা সময় ছেলেদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু হাল ছাড়েননি শুক্লা দেবী। ছেলেদের মানুষ করে তোলার জন্য দাঁতে দাঁত চেপে অন্য এক লড়াই শুরু করেন। শেষপর্যন্ত মিললো সাফল্য। বড় ছেলে মানব মন্ডল সুযোগ পেয়েছে দেশের প্রসিদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রে। ভালো পড়াশোনার শিরোপা স্বরূপ কিশোর বিজ্ঞানী প্রোৎসাহন যোজনার স্কলারশিপ পেয়েছে ইতিমধ্যেই। ছেলের এই সাফল্যে প্রচন্ড অভাবের মধ্যেও আজ খুশির ঝিলিক শুক্লাদেবীর মুখে।

মুম্বাইয়ে থাকা মানব ভিডিও কলে জানিয়েছে ফিজিক্স নিয়ে পড়াশোনা করে পরবর্তীতে এ্যাষ্ট্রো ফিজিক্স নিয়ে মহাকাশ গবেষক হতে চায়। তার এই সাফল্যের পেছনে মা, মাসি ও শিক্ষক শিক্ষিকাদের অবদান রয়েছে বলে মানব জানিয়েছে। ভবিষ্যতে মায়ের চোখের জল মুছিয়ে দিতে চায় স্টিফেন হকিং, এপিজে আব্দুল কালামের ভক্ত রায়গঞ্জের এই পড়ুয়া।
অন্যদিকে এলাকার প্রাক্তন কাউন্সিলর অনিরুদ্ধ সাহা বলেন, কতটা ইচ্ছাশক্তি থাকলে চরম অভাব ও দারিদ্র্যতাকে উপেক্ষা করে এই সাফল্য মেলে, তার উদাহরণ মানব। ওর এই সাফল্যে তারা গর্বিত। মানবের স্বপ্নপূরণে সবসময় পাশে থাকবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

