ঘাটালে মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত না হওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে দোষারোপ করলেন মানস ভুঁইঞা

কুমারেশ রায়, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ৬ আগস্ট:
ঘাটালে বন্যা পরিদর্শনে এসে মন্ত্রী মানস ভুঁইঞা মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত না হওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধোনা করলেন। তিনি চন্দ্রকোনাতে বন্যা পরিদর্শনে এসে যা বলেছিলেন সেই একই কথার পুনরাবৃত্তি করে বলেন, প্রথমে কেন্দ্রীয় সরকার বলেছিল ৭৫ ভাগ খরচ দেবে। তারপরে বলল ৫০ ভাগ তারা দেবে এবং ৫০ ভাগ রাজ্য দেবে, তাতেও মুখ্যমন্ত্রী রাজি হলেন। কিন্তু সাড়ে পাঁচ বছরে মাস্টার প্ল্যানের জন্য কোনও টাকা মঞ্জুর করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। প্রতিবছর ঘাটাল ডোবে, আর্তনাদ ওঠে।

জলাধারগুলি থেকে জল ছাড়ার প্রসঙ্গে মন্ত্রী ক্ষোভের সাথে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করা সত্বেও, না জানিয়ে জলাধারগুলি জল ছাড়ছে। মেদিনীপুর হাওড়া, হুগলি সহ বিভিন্ন জেলা জলে জলাকার। কেন্দ্রীয় সরকার নির্যাতন করে বাংলাকে পিষে মারার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাংলা মন্বন্তরে মরেনি, বাংলাকে এভাবে শেষ করা যাবে না বলে মানসবাবু বলেন।

তিনি সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, রাজ্যকে বঞ্চনা করার জন্য, মুখ্যমন্ত্রীকে অসম্মান করার জন্য ঘাটালের মানুষকে ডুবিয়ে পচিয়ে মারার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার একটা পয়সাও দিচ্ছে না। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে কয়েকটা বড় বড় খাল কাটানোর কাজ শুরু হয়েছে। কেলেঘাই এবং কপালেশ্বরির যে কাজ হয়েছে তার ২২২ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় সরকার এখনো দেয়নি। ভোটের আগে যেসব বিজেপি নেতারা দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, কর্ণাটক সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করেছিলেন। তাদের একজনকেও দেখছেন এই দুর্দিনে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সাহায্য করতে এসেছে?

ডিভিসিতে রাজ্যের সচিবরা থাকে এবং রাজ্যকে জানিয়ে জল ছাড়া হয়, শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যে
বর্ষিয়ান মন্ত্রী মানসবাবু বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর আরও প্রশাসনিক পরিপক্কতা প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি বিষোদ্গার করলেও মানসবাবু দাবি করেন, তারা কোনও দোষারোপ করছেন না। কেউ কেউ দোষারোপ বলে বিতর্ক বাধাচ্ছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে সাহায্য করতে বাধ্য। তিনি বলেন, দাসপুরে চারটে খাল কাটানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার ৬৫০০০ কোটি টাকা দেয়নি, কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দিলে আমরা ডবল মাস্টার প্ল্যান করে দেবো বলে মন্ত্রী বলেন।

এদিন মানস বাবুর সাথে ছিলেন মন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শিউলি শাহা, এডিএম পিনাকী রঞ্জন প্রধান, ঘাটালের এসডিও সুমন বিশ্বাস, এসডিপিও অগ্নিশ্বর চৌধুরী, ঘাটাল থানার ওসি দেবাংশু ভৌমিক। এদিন তিনি মনসুকা ২ নম্বর অঞ্চলে কয়েকজনের হাতে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের ত্রাণের কিটস তুলে দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *