রাজেন রায়, কলকাতা, ২ অক্টোবর: অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে এমনিতেই ভুগতে হয় রাজ্যবাসীকে। তার ওপরে ডিভিসির জল ছাড়া নিয়ে ফের চিরাচরিত পদ্ধতিতে
কেন্দ্রকে দায়ী করলেন মমতা। দক্ষিণবঙ্গে ডিভিসির ছাড়া জলে প্লাবিত আটটি জেলা। সব মিলিয়ে প্রায় ৪ লাখ মানুষকে বন্যা কবলিত এলাকা থেকে বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরগুলিতে এবং অন্যত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ১ লাখ বাড়ি। এদিন বন্যা দুর্গত এলাকাগুলি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঘুরে বেড়ানোর সময়ে ডিভিসি এখন পর্যন্ত কত জল ছেড়েছে, তার বিস্তারিত হিসেব তুলে ধরেন তিনি। আর তারপরই নবান্নে ফিরে জরুরিকালীন উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন। বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের শীর্ষ আমলারা।
নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে আজ আরও একবার কেন্দ্র এবং ডিভিসিকে দুষলেন মুখ্যমন্ত্রী। বললেন, ‘যেভাবে এবারে জল ছাড়া হয়েছে, এটি একটি বড় অপরাধ। এটা ম্যান মেড ক্রাইম। এর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাব প্রধানমন্ত্রীকে।
৩০ সেপ্টেম্বর এবং ১ অক্টোবর দফায় দফায় জল ছেড়েছে ডিভিসি। ঝাড়খণ্ডের থেকে ৮০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। দু’দিন মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ কিউসেকের উপর জল ছেড়েছে কেন্দ্র।’ যদিও ডিভিসির দাবি, সব সময় নবান্নকে জানিয়ে তারপরে জল ছাড়া হয়।
যদিও এতবার জল ছাড়া নিয়ে বেজায় চটে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রয়োজনে যে রাজ্য ডিভিসির থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে নেবে, তাও বুঝিয়ে দেন মমতা। বলেন, ‘এর আগে কখনও এত জল ছাড়া হয়নি। এটা ম্যানমেড ক্রাইম। যেভাবে জল ছাড়া হয়েছে তা অপরাধ। ডিভিসির ছাড়া জলে ৮ জেলা প্লাবিত। ড্রেসিং করলে বাংলার এই পরিণতি হত না। একইসঙ্গে ঝাড়খণ্ডের ভূমিকাতেও অসন্তুষ্ট মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “আপনারা আমাদের ঘাড়ের উপর নিশ্বাস ফেলবেন না। বাঁধগুলি সংস্কার করুন। জল ছেড়ে দিয়ে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলে হবে না। প্রয়োজনে আলোচনা করুন।”

