ফটো শুটের নামে মহিলাদের সোনার গয়না হাতিয়ে প্রতারণার অভিযোগে চুঁচুড়ায় গ্রেফতার এক ব্যক্তি

আমাদের ভারত, হুগলী, ১৯ ডিসেম্বর : মহিলাদের ফটো শুট করে মোটা টাকা উপার্জনের টোপ দিয়ে গয়না লুটের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন এক প্রতারক। শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে চুঁচুড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায়। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম কৃষ্ণ ঘোষ। বাড়ি শিলিগুড়ির ভক্তিনগর এলাকায়। তিনি চুঁচুড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় একটি আবাসনে দুবছর ধরে ভাড়া থাকতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত কৃষ্ণ ঘোষ নিজের ফেসবুক পেজে রীতিমত বিজ্ঞানপন দিয়েছিল। বলেছিল, বিভিন্ন ধরনের ফটোশুটের রেট বিভিন্ন রকম। শাড়ি, সালোয়ার, বিকিনি বোল্ড, ব্রাইডাল ফটোশুটে যারা আগ্রহী তারা যোগাযোগ করতে পারেন। একবার ফটোশুটে সর্বাধিক আঠেরো হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয় বলে অভিযুক্ত ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেন। সোশ্যাল মিডিয়ার এহেন বিজ্ঞাপন দেখে অনেক মহিলাই উৎসাহি হয়ে প্রতারকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি মহিলাদের বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে গিয়ে ফটো শুটের নামে মহিলাদের আনা গয়না পরতে বলতো। এরপর ফটো শুট হয়ে গেলে সেই গয়নার ব্যাগ বাইরে একটি স্কুটিতে রেখে আসতে বলত। একই সঙ্গে হোটেলে খাওয়া দাওয়া করতে করতে প্রতারক স্কুটি সহ মহিলাদের গয়না নিয়ে চম্পট দিত। একই সঙ্গে অভিযুক্ত তার মোবাইলের সুইচ অফ করে দিত। চারমাস আগে ব্যান্ডেলের এক মহিলা চুঁচুড়া থানায় এই সংক্রান্ত বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে তিনি জানান, তার গয়না লুট হয়েছে। পুলিশ তখন অভিযুক্তের নাগাল পায়নি।

শনিবার দুই যুবতী চুঁচুড়া থানায় ওই একই ধরনের গয়না লুটের অভিযোগ দায়ের করেন। ওই মহিলাদের বাড়ি বাগুইআটি এলাকায়। তাদের অভিযোগ, ফেসবুকের মাধ্যমে তারা ফটোশুটের কথা জানতে পারেন। ফটোশুট করার পরই অভিযুক্ত তাদের গয়না নিয়ে চম্পট দিয়েছেন।

নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, এই কাজে একটি স্কুটি ব্যবহার করত অভিযুক্ত। যেটি তার বান্ধবীর। অভিযুক্তের ফোনের টাওয়ার লোকেশান ট্রাক করে পুলিশ। চুঁচুড়ার একটি শপিং মলের সিসি টিভি থেকে কৃষ্ণ ঘোষের ছবি সংগ্রহ করে পুলিশ। ফোনের টাওয়ার লোকেশান ট্রাক করে যে আবাসনে অভিযুক্ত থাকতো সেখানে পৌঁছে যায় পুলিশ। তদন্তকারীরা জানতে পারে ফেসবুকে বন্ধুত্ব পাতিয়েও মহিলাদের জালে ফেলত সে। ফোটো শুটের নামে অর্থের টোপ দিত। পোলবার একটি হোটেলে ঘর ভাড়া নিয়ে ফটো শুট করত। ব্রাইডাল শুটের নামে বোল্ড ফটো শুট করত। এসবের পিছনে ব্ল্যাকমেল রয়েছে কি না সেটাও জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। অনেক মহিলারাই ব্রাইডাল শুট করতে চায়। কারন, গয়না পরে সুন্দর করে সেজে ছবি তোলা যায়। সেই সুযোগটাকেই কাজে লাগাত অভিযুক্ত। ব্রাইডাল শুটের শর্ত ছিল গয়না পরে অথবা সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে। তদন্তকারীরা জানতে পারে সম্প্রতি একটি বেসরকারী স্বর্ণ ঋণদানকারী সংস্থায় গয়না বন্দক রেখে টাকা তুলেছে কৃষ্ণ। তার ব্যাংক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। শিলিগুড়িতে কৃষ্ণ ঘোষের নামে কোনও অভিযোগ আছে কি না কেন দুবছর আগে সেখান থেকে চলে আসে তা জানতে শিলিগুড়ি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেরটের পুলিশ কর্তারা। কতজন মহিলা তার ফাঁদে পড়েছে তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বোল্ড ফটো নীল সাইটে ছাড়া হত কি না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। রবিবার ধৃতকে চুঁচুড়া আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *